রেকর্ড গড়তে পারেন শেখ হাসিনা|114002|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
রেকর্ড গড়তে পারেন শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রেকর্ড গড়তে পারেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া সিএনএন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে রবিবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড গড়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় সহিংসতা প্রতিরোধে দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির বয়কটের মুখে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তখন থেকেই হাসিনার বিরুদ্ধে কর্র্তৃত্ববাদী আচরণ, মিডিয়া এবং বিরোধীদলীয় নেতাদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যদিও তার সময়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিলেও কারচুপি হতে পারে।

প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক এবং ‘দ্য কর্নেল হু উড নট রিপেন্ট : দ্য বাংলাদেশ ওয়ার অ্যান্ড ইটস আনকুইট লিগ্যাসি’ নামক বইয়ের লেখক সলিল ত্রিপাঠীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলাদেশ সরকার এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকে ভিসা দিতে বিলম্ব করছে।’

সিএনএনকে ত্রিপাঠী বলেন, ‘আপনি স্বাধীন এবং ন্যায্য নির্বাচন চান এবং বাংলাদেশ এই সুযোগ হারাচ্ছে। আপনি পর্যবেক্ষকদের আসতে না দিলে কীভাবে আপনি স্বচ্ছতা প্রমাণ করবেন?’

গত সপ্তাহেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক রিপোর্টে জানায়, ‘বাংলাদেশে দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করছে। বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং ব্যাপক নজরদারির মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষ থাকেনি এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকে এড়িয়ে গেছে।’

এইচআরডব্লিউ এশিয়ার প্রধান ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত না ক্ষমতাসীন পার্টির সংযোজিত অংশ হিসেবে কাজ করা। নির্বাচনী প্রচারের সময়কার সহিংসতায় বিরোধীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত অক্টোবরে সরকার একটি বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব এবং অনলাইনে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব করবে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে এটা ব্যবহার করা হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে, শুধু গত সেপ্টেম্বরেই ৩০ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায় কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই। অথচ বছরের প্রথম ৮ মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৮।

আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কয়েক মাস কারাগারে রাখার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, এক যৌথ বিবৃতিতে ২৫টি মানবাধিকার সংস্থা ওই আলোকচিত্রীকে অবিলম্বে নিঃশর্তে মুক্তির দাবি তোলে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের নিন্দা জানায়।

বিরোধীদলীয় নেতাদের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে কারাগারে। তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পারেন। বিএনপি সমর্থকদের দাবি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।