থমথমে পরিস্থিতি জনমনে আতঙ্ক|114006|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
থমথমে পরিস্থিতি জনমনে আতঙ্ক

থমথমে পরিস্থিতি জনমনে আতঙ্ক

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগের দিন কোলাহলপূর্ণ যাত্রাবাড়ীও ছিল থমথমে। ব্যস্ত ওই এলাকায় মানুষ ও গণপরিবহনের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। তবে বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিল ঢাকা-৫ আসনের অন্যান্য এলাকাতেও। সবখানেই থমথমে পরিস্থিতি, ভোট ঘিরে জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

শনিবার সরেজমিন ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, ডেমরা কোনাপাড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যাদের বাইরে দেখা গেছে তাদের বেশিরভাগই ব্যস্ত ছিলেন আড্ডা ও আলোচনায়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভোট। আজ রবিবারের ভোট নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও শঙ্কা রয়েছে কারো কারো মধ্যে। তবে সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চান।

দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর নবীনগর এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শান্ত পরিবেশ দেখছি।

এটি যেন বজায় থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোট দিতে অবশ্যই কেন্দ্রে যাব। এত দিন পর ভোট এসেছে ভোট না দিয়ে কি পারি?’ যাত্রাবাড়ীর আব্বাস উদ্দিন রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জহিরুল হক বলেন, ‘কারো কারো মধ্যে উৎসবের আমেজ থাকলেও অনেকের মধ্যে ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ধৈর্যের পরিচয় দেয়, তাহলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহ পাবেন। ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে যেতে না পারলে তো ভোট নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই।’

ডেমরার পশ্চিম হাজীনগর এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এই আসনে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখিনি। এ অবস্থা যেন নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকে।’ ডেমরার কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি বুঝে ভোট দিতে যাব। আমাদের আশা নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়।’

এদিকে ঢাকা-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী অভিযোগ করেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা এলাকায় বিএনপির সমর্থক, দলের নেতা কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের লোকেরা হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, ভোটকেন্দ্রে শুধু আওয়ামী লীগের লোকেরাই থাকবে। কিন্তু এ অবস্থায়ও আমরা কর্মীদের সংগঠিত করছি। ভোটে শেষ পর্যন্ত লড়ব আমরা।’ তিনি বলেন, ‘এখন ঘরোয়াভাবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। তাদেরকে সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রে থাকার কথা বলছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আমিই বিজয়ী হব।’

এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা। তার দলের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, বিএনপির কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের কেউ যদি এ রকম কিছু করে থাকে তাহলে তিনি (নবী উল্লাহ নবী) তাদের নাম বলুক। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করব। আর তিনি যদি চান, কোন কোন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেবেন আমরা নিজেরা গিয়ে তার পোলিং এজেন্টদের বসিয়ে দিয়ে আসব।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনে কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ বজায় রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ভোটাররা উৎসবের পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’