সিইসির আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে: আলাল|114055|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:৩৬
সিইসির আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে: আলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিইসির আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে: আলাল

নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার আশঙ্কাটাই এখন সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচনের পরিস্থিতি তুলে ধরে রোববার দুপুরে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আলাল বলেন, ‘বহুল প্রতীক্ষিত ও বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি জাগরণ এসেছিল। কিন্তু যেদিন আমরা দেখলাম সকল নির্বাচনী ইতিহাসের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সিইসির পক্ষ থেকে জানানো হলো- নির্বাচনের দিন সমস্ত হাসপাতাল, সব ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্সকে স্ট্যান্ডবাই রাখার জন্য, সেদিনই আমরা ভেবেছিলাম বোধ হয় নির্বাচনটা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।’

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেটা আগেই জেনেছিলেন। জেনেই উনি ভোটারদের সতর্ক করেছিলেন। ওনার সেই আশঙ্কাটাই এখন সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে’ যোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে কথাগুলো বারবার বলছিলাম- ব্যালট পেপারে আগেই সিল মারা হবে, কোথাও কোথাও আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হবে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, পিটিয়ে কেন্দ্রে থেকে দূরে রাখা হবে। সেই চিত্রই কিন্তু আমরা দেখছি এবং আমাদের সেই আশঙ্কাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো।’

আলাল বলেন, ‘আমরা পরিপূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বাধাগ্রস্ত হলাম। দেখলাম, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।’

তিনি বলেন, সারাদেশের বিভিন্ন আসনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে বা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথবা তাদের সামনে সিল মেরে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্যদের সহযোগিতায় এগুলো করা হচ্ছে। সারাদেশের সার্বিক নির্বাচনের চিত্রটা এরকমই।

তিনি বলেন, সকালে নির্বাচন শুরু হওয়ার সময়ও আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশায়ও পদাঘাত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে হতাশ ও বিস্মিত করা হয়েছে।

আলাল বলেন, ‘নির্বাচনের নামে এই অর্থহীন তামাশার কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি না। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বা অন্য কোনো কায়দায় একটা গেজেট জারি করে নিলেই হতো যে, নৌকা ২৯৯ আসন বা দুইশো সাড়ে নিরানব্বই আসন পেয়ে গেছে। এমনটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না। কিছু প্রক্রিয়া দেখিয়ে নির্বাচনকে হালাল করার ব্যবস্থা আজকে পরিপূর্ণ করা হলো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত (দুপুর ২টা পর্যন্ত) যা জানতে পেরেছি তাতে ২২১ আসনে অনিয়মের একই চিত্র। মাত্রার হেরফের থাকতে পারে। তবে সারাদেশে সার্বিক চিত্র এমনই।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভোটতো প্রায় শেষ হয়েই গেছে। ভোটে না থাকার তো কোনো যৌক্তিকতা নেই, থাকতেই হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আপনারা কি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কি করব বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।’