নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ১৪ জনের|114064|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩৮
নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ১৪ জনের
অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ১৪ জনের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন আনসার সদস্যও রয়েছেন। আহত হয়েছেন অজ্ঞাত সংখ্যক।

নোয়াখালীতে আনসার সদস্য নিহত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নুরুনন্নবী (৫০) এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাছারা কেন্দ্রে রোববার দুপুরের পর এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ।

চট্টগ্রামে নিহত ৩

ভোটকেন্দ্রে সহিংসতায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুজন এবং বাঁশখালীতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে পটিয়ার পশ্চিম মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক (১৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ মালিয়ারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সাদে বিএনপি সমর্থক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পটিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান জানান, কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে আবু সাদেক নিহত হন।

এর আগে শনিবার রাতে পটিয়ার গুরনখাইন এলাকায় বিএনপি কর্মীদের হামলায় যুবলীগ কর্মী দ্বীন মোহাম্মদ নিহত হন।

এদিকে, চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের বাশঁখালীতে ভোট শুরুর আগে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহমদ কবির (৪৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কবির কাথারিয়া ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গেলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলেই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে ত্রিমুখী সংঘাত হয় এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহমদ কবির মারা গেছেন বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল। তিনি বলেন, নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।

রাজশাহীতে প্রাণ গেল ২ জনের

রাজশাহীতে নির্বাচনী সহিংসতায় রোববার দুজন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন আসনে সহিংসতায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মোহনপুরের পাকুড়িয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে মেরাজউদ্দিন (২২) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে বিএনপির কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান।

এদিকে, রাজশাহী-১ আসনে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির কর্মীদের লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাজশাহী জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লার চান্দিনা ও নাঙ্গলকোটে ২ জন নিহত

চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে মজিবুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় মিজানুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবুর রহমানের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার লাজুর গ্রামে। তিনি চান্দিয়ায় পোলট্রি ফিডের গোডাউনের শ্রমিক ছিলেন।

কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, অতর্কিতভাবে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও ককটেল এনে কেন্দ্রে হামলা চালায়। দুটি ব্যালট বাক্স মাঠের মধ্যে ভেঙে ফেলে। চারটি নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিজিবি, পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় হেলমেটধারী লোকজনের হকিস্টিকের আঘাতে বাচ্চু মিয়া নিহত হন। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলায় দোলখার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামে সকালে পুলিশের গুলিতে ইসরাইল মিয়া (২০) নামের একজন নিহত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ ইসরাইলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারে ১ জন নিহত

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী এলাকায় বিএনপি সমর্থকদের হামলায় হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক (২৫) নামের এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাতব্বর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকের হোসেন ভূঁইয়া জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটিতে যুবলীগ নেতা নিহত

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা বাছির উদ্দীন (৩৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বাছির উদ্দীনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নরসিংদীতে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সংঘর্ষে নিহত ১

নরসিংদীর শিবপুরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নৌকার এজেন্ট নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে কোন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহবুব মৃধা জানান, সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন কোন্দারপাড়া কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে কেন্দ্রে আসেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। ওই সময় আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা জালভোট দেওয়ার অভিযোগ এনে সিরাজুল ইসলামকে কেন্দ্রের ভেতরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর খবর পেয়ে সিরাজুল ইসলামের সমর্থকেরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৌকার এজেন্ট মো. মিলন ( ৩০) ঘটনাস্থলেই মারা যান।  

বগুড়ায় নিহত ১

বগুড়ার কাহালুতে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে আজিজুল নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি পায়কর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি।

আজিজুলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কাহালু থানার ওসি শওকত কবীর।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত যুবলীগের আরেক নেতা নাজমুল হুদা জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাটোরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসী গ্রামে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত হয়েছেন। নিহত হোসেন আলী (৫৫) সমসখলসী গ্রামের ওয়ায়েস উদ্দিনের ছেলে।

রোববার ভোটের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সমসখলসী ভোট কেন্দ্রের কাছেই এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী ইয়ার জান জানানতার স্বামীর সঙ্গে ভাতিজা রতন আলীর কোনো পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। তবে চাচা আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও ভাতিজা রতন ছিল বিএনপি সমর্থক।

এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান জানানবিষয়টি সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।