দখল ও জাল ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হবিগঞ্জে ভোট গ্রহণ|114076|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:০৮
দখল ও জাল ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হবিগঞ্জে ভোট গ্রহণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

দখল ও জাল ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হবিগঞ্জে ভোট গ্রহণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভোট কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বেশ কিছু স্থানে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের ও হবিগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার আহমদ রূপক ভোট বর্জন করেছেন।

হবিগঞ্জ-১ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া অভিযোগ করেন যে, সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকেই ১৭৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টি কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ। প্রশাসন, পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রগুলো দখল হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হবিগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বানিয়াচংয়ের দাসপাড়া কেন্দ্রের ধানের শীষের এজেন্ট আবুল বাশার শোয়েবকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে একই আসনের আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি জোসেফ প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে কেন্দ্র দখল করে ভোট টেবিল কাস্ট করার অভিযোগ এনে হবিগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আফছার আহমদ রূপক ভোট বর্জন করেছেন বলে সকাল ১২টায় সাংবাদিকদের জানান।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সব কেন্দ্র সকাল ১০টার পর সরকারি দলের দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মোট ১৩৫টি কেন্দ্রের এজেন্টের বের করে নৌকায় সিল মারা হয়। কোনো কোনো এজেন্টকে গ্রেপ্তার কিংবা মারধর করা হয়।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে হবিগঞ্জ পৌরসভার নোয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কিছু সময় ধাওয়া পাল্টা চলে।

এ সময় ইস্পাত নামে এক কিশোর আহত হয়। পরে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই কেন্দ্র প্রায় এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার বেলায়েত হোসেন।

বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ শহরে জেকে এন্ড এইচ কে হাই স্কুল কেন্দ্রে নৌকা ও ধানের শীষ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সকাল ১১টার পর নৌকার সমর্থরা বিকেজিসি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখল নেয় বলে অভিযোগ করে বিএনপি প্রার্থী জিকে গউসের ছোট বোন মুন্নী।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ হাই স্কুল, নুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে বলে জানান ওসি আনিসুর রহমান।

লাখাই উপজেলায় কাটাইয়া, শিবপুর গ্রামে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন বলে লাখাই থানার ওসি ইমরান হোসেন।

বিএনপি প্রার্থী জিকে গউস বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সকাল ১১টার পর হবিগঞ্জ ৩ আসনের ১৩১টির মধ্যেই ১৩০টিই কেন্দ্র দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এটি ভোট নয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হয়েছে বলে দাবি তার।

হবিগঞ্জ ৪ আসনে  চুনারুঘাট ও মাধবপুরে সব কটি কেন্দ্র দখল করে সরকারি দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের। তিনি ভোট বর্জন করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।