নৌকা সমর্থকদের পেটালো আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা |114085|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:০৫
১০০ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জেলা বিএনপির
নৌকা সমর্থকদের পেটালো আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা
অনলাইন ডেস্ক

নৌকা সমর্থকদের পেটালো আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা

সহিংসতা, ভোট বর্জন, ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ ও গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকার ভোটার হারুন উর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কেউ বাধা দিতে পারনি। পাইকপাড়া কেন্দ্রে ব্যালেট পেপার নিয়ে ভোট সন্ত্রাসীরা সিল মারে বাক্স ভর্তি করে।’

কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা ও ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। ফাঁকা গুলিবর্ষণের বিষয়টি ঠাকুরগাঁও থানার ওসি আসিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

ভোট কেন্দ্রের বিশৃংখলা পরিবেশে দেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর রোববার দুপুর ১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের তাতিঁপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করে বলেন, ‘বেলা ১১টার পর কেন্দ্রে  লোকজনের ঢল নামতে দেখে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র নিজেদের দখলে নেয়। পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের  ১০০টি ভোটকেন্দ্র তারা দখল করে নেয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিট করে বের করে দেয় এবং ভোটকেন্দ্র নিজ দখলে নেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।’

সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নির্বাচনী এজেন্ট তৈমুর রহমান স্বাক্ষতির সংবাদ সম্মেলনে লিখিতপত্র পাঠ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান।

তিনি জানান, নির্বাচন কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মীরা ৫৩টি কেন্দ্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নৌকা প্রতীকে সিল মারে বাক্স ভর্তি করে। অপর দিকে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে। তাই ১০০ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জেলা বিএনপির।

তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আ’লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী অ্যাড. মোস্তাক আলম টুলু কেন্দ্র দখলের অভিযোগ অবান্তর জানিয়ে বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সুষ্ঠু, অবাধ নিরপেক্ষ ভোট সম্পন্ন হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপির নাটক করছে। তাদের ষড়যন্ত্র জনগণ প্রত্যাখান করেছে।’

এদিকে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে একই অবস্থা দেখে দুপুর ১২টায় ভোট বর্জন করেন ধানের শীষ প্রার্থী জামায়াত নেতা আব্দুল হাকিম। তিনি কারাবন্দি, তবে তার পক্ষে স্ত্রী জাকিয়া জাবীন সংবাদ সম্মেলন ডেকে ভোট বর্জন ঘোষণা দেন ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের শুরুতে ১০৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের মারপিট দিয়ে বের করে দেয় নৌকা প্রতীকের সন্ত্রাসীরা। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে অভিযোগ করে প্রতিকার মেলেনি। এ কারণে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াঁনো হলো। হরিপুরের গেদুরা ইউনিয়নের বনগাঁও বাজার কেন্দ্রে হামলা করে ওই সন্ত্রাসীরা। ভীতি ছড়াতে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।’

ভোটকেন্দ্রে স্থগিত চেয়ে পুনঃনির্বাচনের জন্য জেলা রির্টানিং অফিসার কাছে আবেদন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের  মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি ইয়াসিন আলী ।

তিনি তার অভিযোগে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক তার বাহিনী দিয়ে ৩নং আসনে সব ক’টি ভোট কেন্দ্রে ত্রাস সৃষ্টি করে মোটরগাড়ী প্রতীকে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে। এ ছাড়া তার নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় ।

সন্ত্রাসীদের হামলা তার ২ সমর্থক আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মহাজোটের এই প্রার্থী। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে তা সঠিক নয়, তারপরেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ আর জেলার তিনটি আসনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে জানান তিনি।