তবু সদর্পে সেরা|114148|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
তবু সদর্পে সেরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক

তবু সদর্পে সেরা

টেস্ট খেলাটা আসলে কীভাবে খেলে তা বুঝে উঠতেই বাংলাদেশের লম্বা সময় ‘নেই’ হয়ে গেছে। তুলনায় টেস্ট বিশেষজ্ঞ চিনতে তেমন সময় লাগেনি! মুমিনুল হক আর তাইজুল ইসলাম তাই শুধুই টেস্ট ব্র্যান্ডেড। জাতীয় দলে পুরোটা সময় থাকার সুযোগ নেই। টেস্ট এলেই কেবল দলে। তারপরও তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখেন সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে। সদর্পে সবাইকে ছাড়িয়ে বছর শেষ করেন সেরার মুকুট মাথায়।

বাংলাদেশের ঘরোয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানে বিস্তর ব্যবধান। ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে শুধুই প্রশ্ন। অথচ তারা ওখানে খেলেই টেস্টের জন্য তৈরি হন। জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস রুটিন, খাদ্যাভ্যাস এবং আনুষঙ্গিক সবই গোছানো। দলের বাইরে থাকলে ওসব নিয়মে থাকা প্রায় অসম্ভব। তারপরও কীভাবে পারেন তারা?

ওই প্রশ্নের জবাব না খুঁজে চোখ রাখুন তাদের ২০১৮-এর কীর্তিতে। শুরুর দিকে ব্যাটিং গড়ে ব্যাটিংয়ের শেষ কথা স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পরই ছিলেন বাঁহাতি মুমিনুল। ছোটখাটো মানুষটির বিরাট কাণ্ডে চোখ ছানাবড়া হতো। মাঝে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তাকে ছেঁটেই ফেললেন। ওই কোচের বিদায়ের পর ফিরে এই বছরই আবার নতুন করে প্রমাণ করতে হয়েছে নিজেকে। বছরের অন্তে দেখা যাচ্ছে আট টেস্টের ১৫ ইনিংসে ৪৪.৮৬ গড়ে ৬৭৪ রান তার নামের পাশে। চারটি সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ১৭৬। এবং বছরটিতে দেশের সর্বোচ্চ রান মুমিনুলের।

চার বছরের ক্যারিয়ারে মোটে চার ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। টেস্টে শুরু থেকে আলো ছড়ানো যুবা ২৩ ম্যাচে ৯৭ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৮ সালেই নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। সাত ম্যাচে ৪৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বর্ষসেরা বোলার।

মুমিনুলের পেছনে পড়েছেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান। মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমানদের সামনে তাইজুল। আট টেস্টে মুশফিকের ৩৫ গড়ে এক সেঞ্চুরিতে ৪৯০ রান। আট ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ দুই সেঞ্চুরিতে ৩৯.৬৬ গড়ে করেছেন ৪৭৬ রান। চার টেস্টে সাকিবের রান ২১৩। সমান ম্যাচে তামিমের ১৬৩।

ওদিকে তাইজুলের চেয়ে একটি টেস্ট বেশি খেলেও মিরাজ তার ঠিক পেছনে ৪১ উইকেট নিয়ে। চার ম্যাচে ১৭ উইকেট সাকিবের। দেশের মাটিতে তাইজুল বরাবর এগিয়ে। বিদেশের মাটিতে দুর্বলতা স্পষ্ট। তরুণ মিরাজ তার সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিলেও এখনো পেরে উঠছেন না। এই বছর দেশে ছয় ম্যাচে ২২.০৫ গড়ে ৪০ উইকেট তাইজুলের। বিদেশের মাটিতে খেলা দুই টেস্টে বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যান-বোলারের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। তাইজুলও ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশ দল এখনো বিদেশের মাটিতে পারফরমার দল নয়। টেস্টে দেশের মাটিতে প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে শুরু করেছে, সবার বিপক্ষেই। ২০১৮ স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যাটে মুমিনুল আর বলে তাইজুল নির্ভরতারই অন্য নাম।

এই বছর বিদেশে দুই টেস্টের চার ইনিংসে মোটে ১৬ রান মুমিনুলের! অথচ দেশে ৬৫৭ রানের গড় প্রায় ৬০। দেশের পক্ষে বছরের সাত সেঞ্চুরির চারটিরই মালিক মুমিনুল। সব মিলে ৩৩ ম্যাচে আট সেঞ্চুরিতে ২৫১৩ রান। বিদেশে খেলা ১২ ম্যাচে কোনো সেঞ্চুরি নেই। ছয়টি ফিফটি। গড় ওখানে যখন ২৫.০৪ দেশে তখন ৫৬.৯৭। তবে এই বছরটা আক্ষরিক অর্থেই মুমিনুলের অস্তিত্ব রক্ষার ছিল। তাতে সফল। ক্যারিয়ারে এক বছরে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডও এই বছর।

ইনিংসে ৩৩ রানে ৬ উইকেট, ম্যাচে ১৭০ রানে ১১ উইকেট। এগুলো তাইজুলের ক্যারিয়ারসেরা এবং এই বছরের। দেশের তিন সিরিজের একটির সেরা খেলোয়াড়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার এড়ানোর ঢাকা টেস্টের অন্যতম নায়ক। আর মাত্র তিনটি হলেই উইকেট শিকারের সেঞ্চুরি করবেন। দেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে। ২০১৭ সালে পাঁচ টেস্টে ছিল মাত্র ১১ উইকেট। এই বছরটা তাই স্পিনারের জন্য ছিল বিশাল পরীক্ষার। তাতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। দেশে এই বোলারের ১৭ ম্যাচে ৮১ উইকেট। বিদেশে ছয় ম্যাচে ১৬। তাই এই বছরটায় দেশের বাইরের মাটিতে মাত্র ৩ উইকেট দেখেই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত টেনে দেওয়ার উপায় নেই।

একই কথা মুমিনুলের জন্যও প্রযোজ্য। দেশে ফিফটিগুলো সেঞ্চুরিতে অনূদিত হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে না। সব মিলে অবশ্য ২০১৮ সালটা যে উচ্চতায় দুজনার গেল তার প্রভাবে নতুন বছরে নতুন মাত্রা যোগ তো হতেই পারে।