যশোরে নৌকার একচ্ছত্র জয়|114208|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০২:২৫
যশোরে নৌকার একচ্ছত্র জয়
যশোর প্রতিনিধি

যশোরে নৌকার একচ্ছত্র জয়

যশোর জেলায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটে ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজয়ী নৌকা প্রার্থীরা হলেন আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব:) ডা. নাসির উদ্দিন, কাজী নাবিল আহমেদ, রণজিত কুমার রায়, স্বপন ভট্টচার্য্য ও ইসমত আরা সাদেক।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের দফতর থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মফিকুল হাসান তৃপ্তি পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৮১ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকের বখতিয়ার রহমান ১ হাজার ৩৩০ ভোট ও  গোলাপ ফুল প্রতীকের সাজেদুর রহমান ডবলু  পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ ভোট।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শীষের্র প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু সাইদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৪০ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকের ফিরোজ শাহ ১ হাজার ১৮২ ভোট, মই প্রতীকের আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৫৯১ ভোট, হাত পাখা প্রতীকের আসাদুজ্জামান ৩ হাজার ৩০০ ভোট ও উদীয়মান সূর্যের এম আছাদুজ্জামান পেয়েছেন ৭৭ ভোট ও  কাঁঠাল প্রতীকের বিএম সেলিম রেজা ১ হাজার ২৪ ভোট।

যশোর-৩ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ পেয়েছেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৩ ভোট। তার নিকটতম  প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ৩১ হাজার ৭১০ ভোট পেয়েছেন, লাঙ্গল প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম ১ হাজার ৬৯ ভোট, গোলাপ ফুল প্রতীকের মনিরুজ্জামান মনির ১ হাজার ৬৬৭ ভোট, কুলা প্রতীকের মারুফ হাসান কাজল ৯১৪ ভোট ও তারা প্রতীকের সৈয়দ বিপ্লব আজাদ ১২৫ ভোট।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রণজিত কুমার রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের টিএস আইয়ুব পেয়েছেন ৩০ হাজার ৮৭৪ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের জহুরুল হক ১ হাজার ৯৭৮ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে নাজমুল হুদা ৫ হাজার ৬৫৭ ভোট, কাঁঠাল প্রতীকে লে.কর্নেল (অব.) এম শাব্বির আহমেদ ৭৪২, কুলা প্রতীকে নাজিম উদ্দিন আল আজাদ পেয়েছেন ৯৯ ভোট, আম প্রতীকের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২০৯ ভোট ও গোলাপফুল প্রতীকের লিটন মোল্লা ১ হাজার ৯শ’৬৯ ভোট।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে নৌকার স্বপন ভট্টাচার্য্য পেয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৮শ’ ৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মুফতি ওয়াক্কাস ২৪ হাজার ৬২১ ভোট পেয়েছেন, লাঙ্গল প্রতীকের এমএ হালিম ৮৮৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে ইবাদুল হক খালাশী ২ হাজার ৭০৪ , ট্রাক প্রতীকের (স্বতন্ত্র) কামরুল হাসান বারী ৮৫৭, হুক্কা প্রতীকের নিজাম উদ্দিন ১২৪ ও গোলাপফুল প্রতীকের রবিউল ইসলাম ৪১৭ ভোট।

যশোর ৬ আসনে (কেশবপুর) নৌকার প্রার্থী ইসমত আরা সাদেক ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৩ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকে মাহবুব আলম ৩৫১ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে আবু ইউসুফ বিশ্বাস ১ হাজার ১৭০ ভোট ও গোলাপফুল প্রতীকে সাইদুজ্জামান ৩৮০ ভোট পেয়েছেন।

সব কয়টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টির উৎসবে মেতেছেন। এবারের নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনের ৭৯৯টি কেন্দ্রে রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৩ হাজার ১৫৬ জন।

এরমধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে ৭৯৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ৪ হাজার ১১৯ ও পোলিং অফিসার হিসেবে ৮ হাজার ২৩৮ জন ছিলেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে  আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ৬টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৬ জন । এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ১০ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৪জন ও মহিলা ভোটার ছিলেন  ১০লাখ ৪৩ হাজার ৩১২ জন।