সিলেটজুড়ে আলোচনায় ড. মোমেন|114312|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
কে হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী?
সিলেটজুড়ে আলোচনায় ড. মোমেন
ফখরুল ইসলাম, সিলেট

সিলেটজুড়ে আলোচনায় ড. মোমেন

গত ২৮ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সিলেট থেকে নির্বাচিত সাংসদ। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে যে দল সরকার গঠন করেছে তাতে অর্থমন্ত্রী হয়েছেন সিলেটেরই কেউ। এদের মধ্যে দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপি নেতা প্রয়াত এম সাইফুর রহমান, একবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়া। টানা দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিক ড. এ কে আবদুল মোমেন। এরই মধ্যে সিলেটজুড়ে আলোচনা চলছে কে হতে যাচ্ছে পরবর্তী ক্যাবিনেটের অর্থমন্ত্রী। এসব আলোচনায় উঠে আসছে ড. মোমেনের নাম। ২৮ বছর ধরে থাকা রেকর্ড কি আরো দীর্ঘায়িত হবে?  আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজনীতি ও মন্ত্রিত্ব থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন এবারের নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ফলে সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে বেশি আলোচিত হচ্ছে ড. মোমেনের নাম।

ড. মোমেন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার শুভাকাক্সক্ষী ছাড়াও সিলেটের অনেক সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছেন তিনিই হবেন নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী।

নির্বাচন উপলক্ষে দেশে এসেছেন যুক্তরাজ্যস্থ জগন্নাথপুর উপজেলা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের কৃতী পুরুষরা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করায় বৃহত্তর সিলেটের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখনো অনেক বড় বড় কাজ চলছে। সিলেটের ড. মোমেন অর্থমন্ত্রী হলে এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরো গতি পাবে।’ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ছাদির আহমদ বলেন, ‘আমরা মোমেন সাহেবকে অর্থমন্ত্রী দেখতে চাই।’

এ প্রসঙ্গে ড. এ কে আবদুল মোমেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি অনেক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই আমাকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ছয় বছর নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১৫ সালে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এখন সিলেটবাসীর ভোটে সাংসদ হয়েছি, এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী এখন নতুন কোনো দায়িত্ব দিলে সেটি পালনের জন্যও আমি প্রস্তুত।’

জানা যায়, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে অর্থমন্ত্রী হন বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারের সন্তান এম সাইফুর রহমান। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন একদলীয় হওয়ায় নতুন সরকারের মেয়াদ ছিল মাত্র কয়েক মাস। এরপর সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ওই সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সিলেটের হবিগঞ্জের শাহ এএমএস কিবরিয়া।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন কিবরিয়া। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পান সাইফুর রহমান। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে অর্থমন্ত্রী হন সিলেট-১ আসনের এমপি আবুল মাল আবদুল মুহিত। দশম সংসদ নির্বাচনেও (বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি) জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। আশি ঊর্ধ্ব বয়সী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজনীতি ও সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এম সাইফুর রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাত ধরে বৃহত্তর সিলেটের চার জেলায় গত প্রায় তিন দশকে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নতুন সরকারেও সিলেটের কেউ অর্থমন্ত্রী হবেন এমন প্রত্যাশা এখন সিলেটবাসীর।