আলুর ফলন ও দামে খুশি চাষিরা|114364|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
আলুর ফলন ও দামে খুশি চাষিরা
আব্দুল মোমেন, দিনাজপুর

আলুর ফলন ও দামে খুশি চাষিরা

উত্তরের শস্যভান্ডার নামে পরিচিত দিনাজপুরে ধান, গম, ভুট্টার পাশাপাশি ব্যাপক চাষ হয় আলু। এবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন আলু তুলতে শুরু করেছেন চাষিরা। ভালো ফলন হওয়ায় যেমন খুশি, তেমনি দামেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আলু তুলতে ব্যস্ত চাষিরা। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা এ কাজ করছেন। আলু বস্তায় ভরে সাজিয়ে রাখার কাজ করছেন পুরুষরা। এরপর ভ্যানে করে ওঠানো হবে ট্রাকে। সেগুলো চলে যাবে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

সদর উপজেলার চাষি রফিকুল ইসলাম (৪৫) জানান, গতবারের তুলনায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও অনেক বেশি পাচ্ছেন। তিনি প্রায় আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি কেজি আলু জমি থেকেই ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

খানসামা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের চাষি আবদুুর রশিদ (৫৫) আলু চাষে অতীতে বেশ কয়েকবার লোকসান গুনলেও এবার লাভের মুখ দেখেছেন। তিনি এবার বিঘা তিনেক জমিতে গেনোলা জাতের আলু চাষ করেছেন। রশিদ বলেন, ‘বর্তমানে আলুর দাম ভালো। প্রতি কেজি ১২ টাকায় বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে ছিল ১৫ থেকে ১৬ টাকা। এখন দাম কমলেও লাভ করতে পারছি।’ অনেক চাষি ডায়মন্ড, সাজিদা, সেভেন, স্টিক জাতের আলুও চাষ করেন বলে জানান তিনি। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, দিনাজপুর জেলায় এবার ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। চাষ হয়েছে ৩৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। ডিসেম্বর-জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয় বীরগঞ্জ, সদর, কাহারোল, বিরল, খানসামা ও বোচাগঞ্জ এলাকায়।

জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান আবহাওয়া বেশ ভালো হওয়ায় আলুর দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। আশা করি বাজারে এই দাম থাকবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

কাহারোল উপজেলার মোতাহার হোসেন (৬০) বলেন, ‘আমি ডায়মন্ড আলু চাষ করেছি। আগাম বিক্রির উপযোগী এই আলুর দাম ভালো পাওয়া যায়। গতবার ভরা সিজনে প্রতি কেজি তিন টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার অনেক বেশি দাম পাচ্ছি। তাই লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। দোকানদার রব্বানী ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনি। বর্তমানে আলুর বাজার ভালোই আছে।’ আলু তুলতে ব্যস্ত নারগিস বেগম (৩৮) কাজের ফাঁকে বলেন, ‘হামরা তো বাড়িত বসি থাকি, আলুর সিজন আসিলে আলু তুলিবার আসি। সারা দিন আলু তুলিলে ২০০ টাকা পাই। এই টাকা হামরা সংসারের কামত লাগাই।’

আলুর বস্তা প্রস্তুতকারী হেলাল উদ্দিন (৩২) বলেন, ‘এই সময়টা হালকা কাজ থাকে আমাদের। আলু তোলার কাজটাও সহজ। সারা দিন কাজ করলে ৩০০ করে টাকা পাই। এটা আমাদের জন্য ভালো সময়।’