৫ জানুয়ারির মধ্যেই শপথ প্রধানমন্ত্রীর|114387|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
মন্ত্রিসভায় অনেক নতুন মুখ
৫ জানুয়ারির মধ্যেই শপথ প্রধানমন্ত্রীর
উম্মুল ওয়ারা সুইটি

৫ জানুয়ারির মধ্যেই শপথ প্রধানমন্ত্রীর

টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে হ্যাট্রিক করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এর আগের মেয়াদসহ শেখ হাসিনা চতুর্থবারেরমতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি হবে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব। নতুন বছরের এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সরকার গঠন হবে। বছরের প্রথম সোমবার নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আভাস দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।

তার আগে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন সাংসদরা শপথ নেবেন। দশম সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

ইসি থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আজ-কালের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল একজন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেছেন, বছরের প্রথম সোমবার নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। বুধবারের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনের পরদিন সচিবালয়, সংসদসহ সারা দেশেই আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা এবার  কেমন হবে? গত দুইবার যারা মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তাদের অনেকেই এবার বাদ যাবেন, এমনটাই আলোচনা সব জায়গায়।

আবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা এবং তদবির করছেন। দলের এই নিরঙ্কুশ জয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে অনেকেই মরিয়া। তাই নির্বাচনের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কারা স্থান পাচ্ছেন নতুন সরকারে।

জল্পনা-কল্পনা চলছে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ড. আবুল মোমেনের নাম নিয়ে। এ ছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, শাহরিয়ার আলম, ডা. দীপু মনি, জাসদের হাসানুল হক ইনু ও জেপির (জাতীয় পার্টি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম শোনা যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভায়। অনেকে মনে করছেন, গত দুবারের অনেক মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। আবার জাতীয় পার্টি থেকেও পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপার মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙার নাম রয়েছে আলোচনায়।

তবে এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা মনে করেন, বরাবরের মতো মন্ত্রিসভা গঠনের পুরো বিষয় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন সবার আগ্রহ মন্ত্রিসভা নিয়ে। শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ঠিক করে রেখেছেন। এ ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন। 

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, নেত্রী যাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন তাই হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য তারা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের গেজেট হওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমতি চাইবেন এবং তিনিই মন্ত্রিসভার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন। প্রথমে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন। তারপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন। এরপর দপ্তর বণ্টন হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংখ্যার কমপক্ষে দশভাগের ৯ ভাগ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পাবেন। সর্বোচ্চ দশভাগের এক ভাগ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত টেকনোক্রেট হতে পারবেন। নতুন করে শপথ নেওয়ার কারণে আগের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।  তবে আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সরকারের মেয়াদ রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। কয়েক দফা রদবদলের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২।