আলোচনায় বিএনপির মাত্র ৫|114389|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
আলোচনায় বিএনপির মাত্র ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচনায় বিএনপির মাত্র ৫

সকাল ৮টা। চারদিকে সুনসান নীরবতা। রাজধানীর পল্টন চৌরাস্তার পাশের গলিতে চা দোকানি শাহদাত দোকান খুলে মাত্র চা বসিয়েছেন। পাঁচজন যুবক দোকানের সামনে চায়ের অর্ডার দিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা জুড়ে দেন। আলোচনার বিষয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৫ আসনে জয়।

ওই যুবকরা নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ করছিলেন বিএনপির এই ভরাডুবির নেপথ্য কারণগুলো। কেউ বলছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা। কেউ আবার বলছিলেন নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকার কথা। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকাও উঠে আসে তাদের আলোচনায়।

তাদের মতো অনেকেই গত রবিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার দিনের বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন পাঁচ আসনে বিএনপির জয় নিয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, বাসাবাড়ি, বাজার, চায়ের স্টল, মহল্লার দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থানে একই আলোচনা শোনা যায়। অনেকে মুঠোফোনেও বিএনপির পাঁচ আসনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ আসন পাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। সাধারণ মানুষের আলোচনার মধ্যে ছিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন কি না, তিনি সংসদে যাবেন কি না। এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কী করবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সকাল সোয়া ১০টায় নয়াপল্টনের পলওয়েল সুপার মার্কেটের সামনে তিন ব্যক্তি আলাপ করেন ভোটের ফল নিয়ে। তারা সবাই একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তাদের একজন শফিকুল ইসলাম (৪০) বলেন, ‘বিএনপি যেমন দল তেমনই ফল করেছে। সারা দেশে তাদের লাখ লাখ কর্মী। তাদের মধ্যে নাহয় পুলিশ ১০ হাজারই গ্রেপ্তার করেছে। বাকিরা কেন মাঠে নামল না? মাঠে নামলে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলে ফলাফল অন্যরকম হতো।’

জাফর আহমেদ (৩৫) নামে একজন কথা বলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ভোটের আগে থেকে বেপরোয়া আচরণ করে গণহারে এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। ফলে তারা মাঠে নামার সাহস পায়নি।’

শিহাব নামের একজন বলেন, ‘দেখবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম এখন শপথ নেবেন, সংসদে যাবেন, এমপি হিসেবে সুযোগ-সুবিধাও নেবেন।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ে মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের সামনে বিএনপির পাঁচ জয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন সাতজন। তাদের মধ্যে দুজন আইনজীবী, একজন সাংবাদিক ও দুজন ছিলেন চাকরিজীবী। তরুণ আইনজীবী মাসুম বিল্লাহ (৩৮) বলেন, ‘দেখেন ভাই, কী নির্বাচন কী হয়ে গেল। বিএনপি প্রার্থীরাই ভোট দিল না। মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো নেতারা ভোটই দেননি।’ তার কথায় সায় দেন অন্যরাও। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী জেহাদ হোসেন (৪৮) বলেন, ‘এটা একতরফা নির্বাচন ছিল। তাই বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।’

দুপুর সাড়ে ১২টায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে কয়েকজনকে জটলা পাকিয়ে নির্বাচনের ফল নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। তাদের আলোচনাতেও ছিল কোন আসনে কে পাস করল আর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট কত আসন পেল। তাদের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আবুল কালাম আজাদ (৩৬)। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল নিজ আসন ঠাকুরগাঁওয়ে পাস করতে পারল না, অথচ পাস করল বগুড়ায়।’ তার কথায় সায় দিয়ে কালামের বন্ধু ইমরান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন তো ভোট দিতেই যায়নি। এর চাইতে ভালো ফল হবে কীভাবে।’

নয়াপল্টনের একটি সেলুনেও বিএনপির আসনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিএনপির ৯০ শতাংশ প্রার্থীর জামানত বাতিল হওয়া ও বেশ কিছু আসনে দুইশোর নিচে ভোট পাওয়া।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৫ আসনে মোশাররফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুন অর রশীদ জিতেছেন। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন নিয়ে সূর্য প্রতীকে সিলেট-২ আসনে গণফোরাম নেতা মুকাব্বির হোসেন খান ও ধানের শীষ নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বিজয়ী হন।