এশিয়ার শেয়ারবাজার থেকে গায়েব ৫ লাখ কোটি ডলার|114411|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
এশিয়ার শেয়ারবাজার থেকে গায়েব ৫ লাখ কোটি ডলার
কল্লোল কর্মকার

এশিয়ার শেয়ারবাজার থেকে গায়েব ৫ লাখ কোটি ডলার

এশিয়ার শেয়ারবাজারের মূলধন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ২০১৮ সালে। এর একদিকে ছিল শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি এবং অন্যদিকে শেয়ারবাজার থেকে ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার (৫ লাখ কোটি) গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। এই অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা বছরজুড়েই সম্পদের দোদুল্যমানতা, প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা, বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশের বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বছরের শেষদিকে এসে এশিয়া প্যাসিফিক সূচকে ২২ শতাংশ অবনমন ঘটে। যদিও সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি এই অবনমনের যন্ত্রণা কিছুটা কমাতে সাহায্য করেছে।

ডিবিএস গ্রুপ হোল্ডিংসের সিনিয়র বিনিয়োগ পরামর্শক জ্যাসন লো এ বিষয়ে বলেন, ‘বেশ কিছু ঘটনা ২০১৮ সালে ঘটেছে, যা বছরব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে। বাণিজ্যযুদ্ধ এবং হঠাৎ করে শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি এশিয়ার বাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। আর এতে বিনিয়োগকারীরা বর্তমান বাজারের প্রতিক্রিয়ায় অনেকটা অবাক হয়েছে।’

২০১৬-১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে এই অঞ্চলের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির হারে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ করা যায়। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিকের সূচকে, বছরের শেষের ৯০ দিনকে খুব উল্লেখযোগ্য বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন বাজারে বছরব্যাপী প্রাণ থাকলেও এশিয়ার বাজারের স্থিতিবস্থা ছিল কম। আঞ্চলিক শেয়ারবাজার গোটা বছরেই ২৪ শতাংশ অবনমনের মধ্য দিয়ে যায়। জাপান, হংকং এবং সাংহাইয়ের মতো উল্লেখযোগ্য শেয়ারবাজারগুলোর অবস্থা আরো খারাপ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এবং এশিয়াজুড়ে পণ্য সরবরাহ লাইনে বিঘœ ঘটেছে। হংকংয়ের লি অ্যান্ড ফং লিমিটেডের মতো রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানও বেশ জোর আঘাত পেয়েছে। ২০১৮ সালের মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য ৭০ শতাংশ কমে যায়। বছরের অর্ধেকে অ্যাপল ইঙ্ক এবং আমাজান ডটকমের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্যও কমে যায়। এশিয়ার চিপমেকার এবং হার্ডওয়্যার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সমস্যায় জর্জরিত। যদিও স্মার্টফোনের চাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে।

সাংহাই শেয়ারবাজার বছরের শুরুতে যে সূচক ছিল, কিছুদিন পরেই তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। ২০১৮ সালে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার গায়েব হয়ে যায়, যেখানে ২০১৫ সালেও এই অর্থের এক-তৃতীয়াংশ গায়েব হয়েছিল।

আইজি এশিয়ার বাজার কৌশলবিদ ঝিং প্যান বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আচরণের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে শেয়ারের মূল্যের পরিবর্তন হবে তা বর্তমান অবস্থা অতিক্রমের পর প্রাসঙ্গিক হবে। ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা বাজার কীভাবে ভারসাম্য ফিরে পায় তা আমরা দেখব।’

সূত্র : ব্লুমবার্গ