বিলুপ্ত হচ্ছে দুই হাজার বছরের বাওবাব গাছ|114442|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৪:০৫
বিলুপ্ত হচ্ছে দুই হাজার বছরের বাওবাব গাছ
অনলাইন ডেস্ক

বিলুপ্ত হচ্ছে দুই হাজার বছরের বাওবাব গাছ

কোনো কোনো গাছ ২ হাজার বছরের পুরোনো। ছবি: সিএনএন

দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের চিবাদিনি গ্রাম। খুব কম মানুষ এখানে বসবাস করে। তৃণভূমিও দুর্লভ। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে রয়েছে আফ্রিকার প্রাচীনতম গাছ বাওবাব। কোনো কোনো গাছ ২ হাজার বছরের পুরোনো। এদের নিয়ে রয়েছে মিথ, কিংবদন্তি ও লোকগাথা।

বাওবাবকে ডাকা হয় ‘জীবন বৃক্ষ’। কিন্তু আকাশের দিকে ডালপালা ছড়ানো দৈত্যকার গাছগুলোর জীবন আজ সংকটে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাচীন ও বড় কিছু বাওবাব গাছ সম্প্রতি মারা গেছে। ২০১৮ সালে জার্নাল নেচার প্ল্যান্টসের এক গবেষণায় বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে এ মহিরুহ।

বাওবাব গাছ দেখা যায় জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও জাম্বিয়ায়। এসব গাছের বয়স হিসেব করলে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সময়ে ফিরে যায় আমরা। অর্থাৎ, পশ্চিমা সভ্যতার সূতিকাগারে। গ্রিক সভ্যতা, আরও কত সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে এ সময়ে- কিন্তু টিকে আছে বাওবাব। তারও আজ পতনধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

গবেষকেরা দেখেছেন ১৩টি প্রাচীন বাওবাব গাছ ও বৃহৎ ছয়টি মধ্যে পাঁচটি আংশিক বা পুরোপুরি মরে গেছে গত এক যুগে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, একটি বাওবাব ৩ হাজারের বেশি বছর বাঁচতে পারে, পাশে একটি বাসের দৈর্ঘ্যের সমান হতে পারে। বয়স বিবেচনায় সেই গাছগুলো আজ কঠিন অবস্থার মুখোমুখি।

বাওবাব একহারা গড়নের গাছে। উচ্চতায় প্রায় ৭৫ ফুট লম্বা হয়। মাটি থেকে বিশাল আকারের কাণ্ড লম্বা হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে গেছে। মাথায় ঝোপঝাড়ের মতো কিছু ডালপালা ছড়ানো আছে। দেখে মনে হয় ছাতার মতো। তবে বছরের বারো মাসের মধ্যে নয় মাসই এই গাছে কোনো পাতা থাকে না। শীতে পাতা ঝরে যায়, গ্রীষ্মের শেষে নতুন পাতা জন্মায়।

জোহানেসবার্গের আইথিম্বা ল্যাবসের বিজ্ঞানী স্টিফেন উডবর্নের মতো, সর্বশেষ এক হাজার বছরে বাওবাব গাছ আগের চেয়ে বেশি খরা কবলে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের দেখা দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি গাছ দুই হাজারের বেশি পুরোনো। গত এক দশকের মধ্যে তারা মারা গেছে। ১১টি গাছের বয়স ১ হাজার থেকে ২ হাজার বছর। তাদের মধ্যে ৬টি মারা গেছে।”

তিনি জানান, যত বাওবাব গাছ এ সহস্রাব্দে মারা গেছে, তার বেশির ভাগই দক্ষিণ আফ্রিকায়। অন্য এলাকায় এভাবে ঘটেনি।

মরু অঞ্চলের গাছ বলে খুব কম পানিতেই বাওবাবের প্রয়োজন মিটে। বর্ষাকালে দীর্ঘ কাণ্ডের মধ্যে পানি জমিয়ে রাখে। এই প্রতিটি অংশই মানুষের কাজে আসে। বাকল দিয়ে তৈরি হয় পোশাক ও শক্ত দড়ি। ফল খাওয়া যায়, পাতা থেকে চাটনি ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়। এর গুঁড়ির গর্তে মানুষ বসবাস করতে পারে। ঝড়ের কবলে পড়া গুঁড়ির গর্তে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে। এই নিয়ে গল্পেরও শেষ নেই। আর ওই অঞ্চলের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ বাওবাব।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতিকে বাওবাবের আলাদা মূল্য রয়েছে। এর শিকড় ইতিহাসে পোতা। এখনো পর্যন্ত স্থানীয়রা বিশ্বাস করে এ গাছ রোগ উপশমকারী ও মৃত পূর্বপুরুষদের মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী। এ গাছ তাদের পথ দেখিয়ে দেয়। বর্তমানে অনেকেই এই গাছের বীজ সংরক্ষণে মনোযোগ দিয়েছেন। তাদের আশা এ গাছ আরও সহস্র বছর পথ দেখিয়ে যাবে। সেই নতুন বীজ লাগিয়ে সেই পথ তারা তৈরি করতে চান। মানুষ ও প্রকৃতির যুথবদ্ধতার কারণে হয়তো দুই-ই টিকে যাবে।

সিএনএন অবলম্বনে