বিভীষিকার নাম বায়ু দূষণ|114465|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৩০
বিভীষিকার নাম বায়ু দূষণ
অনলাইন ডেস্ক

বিভীষিকার নাম বায়ু দূষণ

বায়ু দূষণ অনেকগুলো মরণব্যাধির কারণ।

বায়ু দূষণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৪২ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বায়ু দূষণের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।  

মালয়েশিয়ান সংবাদ সংস্থা দ্যা স্টার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, পরিবেশ আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিবেশের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন পৃথিবীকে করে তুলছে আরো দূষিত। দূষিত পরিবেশ অনিবার্যভাবে আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। 
 
ডব্লিউএইচও’র বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষয়ক্ষতির একটা চিত্র প্রকাশ করা হয়। তাতে বিশ্বব্যাপী বায়ু দূষণকে মৃত্যু ও রোগ বালাইয়ের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ু দূষণের প্রধান আসামী হিসেবে ধরা হয়েছে হয়েছে বায়ুতে অবস্থিত বস্তুকণা, ওজন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৪২ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন বায়ু দূষণের কারণে। বিশেষ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ফুসফুসজনিত রোগে। হু বলছে বিশ্বব্যাপী ২৯ শতাংশ মানুষ ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। ২৪ শতাংশ স্ট্রোক, ২৫ শতাংশ হৃদরোগে এবং ৪৩ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস প্রদাহের দরুন মৃত্যুবরণ করছেন। 

বায়ু দূষণের পরেই আছে পানি দূষণ। খাবার ও ব্যবহৃত পানি থেকে প্রতিনিয়ত রোগ ছড়াচ্ছে। কলকারখানার বর্জ্য, শিল্প ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, কীটনাশক, সার এবং পানির ট্যাংক থেকে প্রচুর পরিমাণ দূষিত পানি খাবার ও ব্যবহার পানিতে মিশে যাচ্ছে। 

পানিতে জৈব দূষণকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং বিভিন্ন পরজীবীর উপস্থিতি টাইফয়েড, কলেরা, হেপাটাইটিস ও লিভার রোগের কারণ। 

দীর্ঘমেয়াদী হতাশার কথা হলো জলবায়ুর পরিবর্তন স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ব্যাপক। এটা শুধু সমুদ্র পৃষ্টের উপরই প্রভাব ফেলে এমনটা নয়। বরং বায়ুমানের পরিবর্তনের ফলে সংক্রামক রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে। নতুন বছরে বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ বৃদ্ধির ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। 

 প্রতিবেদনের শেষে পাঠকদের জন্য প্রশ্ন রেখে বলা হয়, আমরা কি প্রস্তুত? আমরাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা করার জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছি? আমরা কি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর জন্য প্রস্তুত? আমরা কি বন্যা, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি?