দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নোয়াখালীর সেই গৃহবধূর বিভীষিকার রাত|114477|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:২২
দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নোয়াখালীর সেই গৃহবধূর বিভীষিকার রাত
মনির চৌধুরী, সুবর্ণচরের চরবাগ্যা থেকে ফিরে

দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নোয়াখালীর সেই গৃহবধূর বিভীষিকার রাত

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাগ্যার এক সিএনজিচালকের স্ত্রী ও চার সন্তানের জননীর জন্য বছরের শেষটা ছিল বিভীষিকার। নতুন বছরের নতুন আলো ভুলিয়ে দিতে পারছে না ভয়ংকর সেই রাতের স্মৃতি।

তাদের কান্নায় গত দু’দিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে আছে। চিকিৎসক, নার্স, আয়া, সুইপার সবার চোখ ভিজে আসছে থেকে থেকে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এ প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূ, তার স্বামী ও সন্তানরা।

ওই নারী জানান, রোববার ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় এলাকার আওয়ামী লীগের রুহুল আমিন মেম্বার ও তার ক্যাডাররা তাকে রাতে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, সেদিন রাত ১০টার পর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরের দরজায় এসে ডাক দিয়ে বলে পুলিশ এসেছে।

‘তখন আমার স্বামী দরজা খুললে একই এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মী সোহেল, আবু, বেচু, হেঞ্জু, মোশাররফ, সালাউদ্দিন, চৌধুরী, সোহাগ, সোহেলসহ আরো কয়েকজন ঘরে ঢুকে স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে বেঁধে ফেলে’।‘

তিনি জানান, এরপর তারা মুখ বেঁধে তাকে বাড়ির উঠানে নিয়ে একে একে সবাই ধর্ষণ করেছে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং জ্ঞান ফেরার পর আবার উপুর্যপরি ধর্ষণ করে।

ওই হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২২টি কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।

গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও রেজিস্ট্রার ডা. ফাতেমা জানান, ধর্ষকরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থান কামড়ে রক্তাক্ত করেছে, যা পশুত্বের বহিঃপ্রকাশ।

ডা: ফাতেমা আরো জানান, ধর্ষণের পর যে রক্তপাত শুরু হয়েছে তা ৫৫ ঘণ্টা পরও বন্ধ হচ্ছে না। এ ছাড়া তার শরীরে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তার দুটি পা ফুলে যাচ্ছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান জানান, ৩১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবা দেওয়া হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে চরজব্বার থানার ওসি (তদন্ত) জানায়, বাদী ওই নারীর স্বামী।

তবে পুলিশ দুই আসামি রুহুল আমিন মেম্বার ও বাদশা আলমকে গ্রেপ্তার করলেও রুহুল আমিন মেম্বারকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, সন্ত্রাসীরা যে দলের হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তারা যদি আওয়ামী লীগের হয় তদন্ত করে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং পুলিশে সোপর্দ করা হবে।

অনেক চেষ্টা করেও এ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। তবে তার নির্বাচনের সমন্বয়কারী মো.: জাভেদ বলেন, এমপি সাহেব ঘটনা শুনেছেন। তিনি পুলিশকে কোনো ছাড় না দিয়ে আওয়ামী লীগের হলেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ধর্ষিতার স্বামী জানান, সোমবার সন্ধ্যায় চরজব্বার থানার ওসি (তদন্ত) হাসপাতালে এসে আমাকে নিয়ে যায় এবং থানায় লেখা এজাহারে আমার সই নেয়। বলেছেন এটাই মামলা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মূল সন্ত্রাসী রুহুল আমিন মেম্বারের নাম মামলায় দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ তাকে ধরেও ছেড়ে দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, অন্য আসামিরাও প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ জানায়, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষিতার চিকিৎসারও খোঁজখবর নেন।