‘পলির ভাগ্যটাই খারাপ’|114483|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:২৬
মালিবাগে বাসচাপায় নিহত ২ নারী শ্রমিক
‘পলির ভাগ্যটাই খারাপ’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘পলির ভাগ্যটাই খারাপ’

নাহিদ পারভিন পলি

ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়ে মামার বাসায় বড় হওয়া মেয়েটি জীবন যেন ভাগ্যতাড়িত। কোথাও সে থিতু হতে পারছিল না। শেষ পরিণতি হলো বাসের চাকার নিচে।

রাজধানীর মালিবাগে মঙ্গলবার বাসচাপায় দুই নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হন। তারা হলেন মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার এএসএম গার্মেন্টসের শ্রমিক নাহিদ পারভিন পলি (২০) ও মিম আক্তার (১৯)।

পলির গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ভাসানি রোডে। তার বাবার নাম এজাজ আহমেদ। মায়ের নাম সাহেদা বেগম। মিমের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সোনা মিয়া।

সজল গায়েন নামে তাদের এক সহকর্মী জানান, পলি ও মিম রমনা মগবাজার পূর্ব নয়াটোলা এলাকার মেসবাসায় ভাড়া থাকত এবং মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় এএসম এম ফ্যাশন নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। একই মেসে থাকত পলি। তিনি জানান, পলি ডিসেম্বর মাসের ২২ তারিখ এএসএম ফ্যাশনে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর ও মিম মঙ্গলবারই হেলপার হিসেবে কাজে যোগ দেন।

তার ভাষ্যে, মঙ্গলবার দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যায় পলি ও মিম। খাবার শেষে রাস্তা পার হয়ে কারখানায় ফেরার পথে বাসচাপা দেয় তাদের।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোশাররফ হোসেন জানান, বাসটি ব্রেক ফেল করে প্রথমে পলিকে চাপা দেয়। সে চাকার নিচে চলে গেলেও বাসটি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে রাস্তার পাশে থাকা মিমকে চাপা দেয়।

সহকর্মী তানিয়াসহ ঢাকা মেডিকেলে আসা সহকর্মীরা নিহত পলির কথা স্মরণ করে বলেন, ‘পলির ভাগ্যটাই খারাপ’। ৫ বছর ছিল বিদেশে। সেখানে থাকার সময় সব টাকা পাঠাত বাংলাদেশে তার এক মামীর কাছে। তার মা-বাবা বেঁচে নেই। ৭-৮ মাস আগে পলি দেশে আসে। এরপর যখন মামির কাছে টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে তার ওপর শুরু হয় অত্যাচার।

‘মামি তাকে বলে, ছোটকাল থেকে তোরে আমরা পালছি না? এখন আবার কিসের টাকা চাস? পরে তাকে মারধরও করেন তারা। এরপর এক বয়স্ক লোকের সঙ্গে তার বিয়ে দেয় তারা। তবে সেই বিয়ে থাকেনি। ৪-৫ মাস আগে তার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগযোগ করে পালিয়ে ঢাকায় আসে পলি’।

তারা জানান, এরপর গত মাসের ২২ তারিখ মালিবাগের এএসএম ফ্যাশন গার্মেন্টসে চাকরি নেন তিনি।

পলি ও মিমের নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অর্ধশতাধিক বাস ও প্রাইভেট গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত আহত হয়েছে।