বরিশালে ৩৯ প্রার্থীর ৩২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত|114501|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
বরিশালে ৩৯ প্রার্থীর ৩২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশালে ৩৯ প্রার্থীর ৩২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই জামানত হারিয়েছেন। সব আসনে বিজয়ী মহাজোট প্রার্থীদের বাইরে শুধু বিএনপির একজনের জামানত টিকেছে। বাকিরা প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পাওয়ায় জামানত বাবদ দেওয়া ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বরিশাল-১ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১১ হাজার ৫০৭টি। আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ৫০২ ভোট। জামানত হারানো বিএনপির জহিরউদ্দিন স্বপন ১ হাজার ৩০৫ ভোট, জাকের পার্টির মো. বাদশা মিয়া ৯৭৭ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার পেয়েছেন ৯৫৪ ভোট।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে প্রদত্ত ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯১ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. শাহে আলম পেয়েছেন ২ লাখ ১২ হাজার ৩৪৪ ভোট। এই আসনে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুসহ ছয়জন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (জাপা) গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৫৪ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৭ ভোট। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র তার জামানত টিকেছে। আসনে জামানত হারিয়েছে বাকি তিন প্রার্থী।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পংকজ নাথ জেলার মধ্যে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩ ভোট পেয়েছেন। জামানত হারিয়েছেন বাকি ছয় প্রার্থী।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মোট প্রদত্ত ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৩ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক শামীম পেয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৮০ ভোট।

জামানত হারানো বিএনপির মো. মজিবর রহমান সারোয়ার ৩১ হাজার ৩৬২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৭ হাজার ৬২ ভোট। বাকি চার প্রার্থী সহস্রাধিক ভোটও পাননি। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রদত্ত ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৮ ভোটের মধ্যে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রতœা পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৮ ভোট। জামানত হারিয়েছেন বাকি ৭ প্রার্থী।

এ বিষয়ে সদর আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘জবরদস্তিমূলক’ উল্লেখ করে নির্দলীয় সরকরের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন। নির্বাচনের ফলাফল ‘হাস্যকর’ বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট   দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ শক্তি প্রয়োগ করে কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির মহোৎসব করেছে। সুষ্ঠু ভোট হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হতো।’