কার্যকর সংসদ চাই|114515|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
কার্যকর সংসদ চাই

কার্যকর সংসদ চাই

সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশীদার হয়ে এ জয়ের সঙ্গী হয়েছে জাতীয় পার্টিও। কিন্তু নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের হিসাব-নিকাশ বলছে এবার জাতীয় পার্টিকে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে গতবারের মতো তারা সরকার ও বিরোধী দল দুটোতেই থাকবে কি না তার মীমাংসা এখনো হয়নি। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা খুবই কম। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সংসদে অংশ নেবে কি না এ নিয়ে গতকালের পত্রিকায় সংশয়মূলক নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

একটি সরকার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সংসদে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার সমূহ সুযোগ থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠস্বর প্রবল হলেও জনগণের সামনে সরকারের কর্মকাণ্ডের ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরতে বিরোধী দলের সদস্যদের সরব ভূমিকা জরুরি। গণতন্ত্রের প্রাণ সরকার ও বিরোধী দলের উপস্থিতিতে সরব একটি কার্যকর সংসদ। জাতীয় পার্টি গত সংসদেও বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু, সরকার ও বিরোধী দল দুই জায়গায় তাদের অবস্থান সংসদকে সরব করে তোলার ক্ষেত্রে খুব বেশি ভূমিকা পালন করতে দেয়নি বলে অনেকে মনে করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের দোদুল্যমানতায় জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে এগিয়ে আসবে কি না এটি এখন দেখার বিষয়।

পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদে কী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পুরো নির্বাচনের ফলই প্রত্যাখ্যান করায় শপথ নেবেন না বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যরা।

অনেক দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকা ঐক্যফ্রন্ট সংসদে গেলে তাদেরও কথা বলার একটি জায়গা তৈরি হবে। সংসদে সরকারের সমালোচনা করে তারা জনগণের কাছে তাদের বিচার-বিশ্লেষণ হাজির করতে যেমন পারবেন তেমনি বিরোধী দলের দুর্বল উপস্থিতিকে আরো শক্তি জোগাতে পারবেন। জাতীয় সংসদে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করা এবং নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। সংখ্যায় যতই হোক না কেন গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের মতামতের মূল্য আছে, বিরোধী দলের দায়িত্ব আছে জাতীয় সংসদে। বিএনপি ও গণফোরাম এখন সেই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেদের সক্রিয় রাখতে পারে।

অবশ্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে জাতীয় সংসদকে কার্যকর রাখার প্রধান দায়িত্ব সরকার গঠন করতে যাওয়া আওয়ামী লীগের ওপরই বর্তায়। আমরা আশা করতে পারি ক্ষমতসীন দল থেকে নির্বাচিত হয়ে টানা তৃতীয় দফায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে চলা শিরীন শারমিন চৌধুরী গত দুইবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও দক্ষতার সঙ্গে সংসদকে সচল রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্কে মুখরিত হয়ে উঠবে জাতীয় সংসদ।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোকে এগুতে হয়, সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয় নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ আর কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য। একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদ অবশ্যই এই কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ফলে সংসদকে কার্যকর না করে সমাজ ও রাষ্ট্রে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আর জনসমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই সংসদ বা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সম্ভব না। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে গরিষ্ঠ বা লঘিষ্ঠ সব দলই জাতীয় সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রে রেখে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন এটাই প্রত্যাশা।