বছরের প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে লাফ|114559|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
বছরের প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে লাফ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বছরের প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে লাফ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই লেনদেন হওয়া অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর বাড়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সব ধরনের সূচকে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেন পরিস্থিতির তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছে প্রায় ৮০ পয়েন্ট। এ নিয়ে টানা ৮ কার্যদিবস ডিএসইতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এ সময়ে প্রধান সূচকটি বড়েছে ২৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে ডিএসইএক্স। সদ্য বিদায়ী বছরে ডিএসইর এ সূচকটি ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। ২০১৯ সালের প্রথম দিনে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত খাতসমূহের সূচক বেড়েছে ১৬৭ পয়েন্ট।

২০১৯ সালের প্রথম দিনের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারের সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট, প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি খাত। গতকাল ব্যাংকিং খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৮টির দরই বেড়েছে। এ খাতের ফ্রি-ফ্লোট (লেনদেনযোগ্য) শেয়ার বেশি থাকায় সূচকে বেশি প্রভাব পড়েছে। 

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি স্থিতিশীল সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। নতুন বছরের শুরুতে এর ইতিবাচক প্রভাব আমার দেখছি। আমরা আশা করছি বাজার পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে এজন্য ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির যে প্রচেষ্টা রয়েছে, সেটা আরো জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার ব্যবসার পরিবর্তে  কোম্পানির প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে কাজ করেন, সেসব কোম্পানিকে যদি তালিকাভুক্ত করা যায়, তাহলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে। এতে করে জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ ১৭ সালে সূচকে টানা ঊর্ধ্বগতির পর সদ্য বিদায়ী বছর ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি প্রবণতায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৮৬৩ পয়েন্ট হারায়। এরপর থেকে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়, যা গত আট কার্যদিবস ধরে অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে গতকালই ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৬১ পয়েন্ট।

এদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচক বাড়লেও লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৫৩০ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা কম। সিএসইতে গতকাল কেনাবেচা হয়েছে ২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ কম।

গতকাল নতুন বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৪১টি কো¤পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬৪টির, কমেছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি কোম্পানির শেয়ার। একই দিনে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৮টির, কমেছে ৩৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি। ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ বিবিএস কেবলস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা, ইফাদ অটোস, খুলনা পাওয়ার, সায়হাম কটন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইউনাইটেড পাওয়ার, পেনিনসুলা চিটাগাং ও বিডি কম।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো এমএল ডাইং, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, খুলনা পাওয়ার, জেএমআই সিরিঞ্জ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা, সিলভা ফার্মা, বিবিএস কেবলস, কাট্টালি টেক্সটাইল ও  পেনিনসুলা চিটাগাং।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑ ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুঃ, মুন্নু স্টাফলার, কেয়া কসমেটিকস্, যমুনা অয়েল, গ্রিন ডেল্টা ইন্সুঃ, ঢাকা ডাইং, সায়হাম টেক্সটাইল, নর্দার্ন জুট, সোনালি আঁশ ও পিএইচপি মি.ফা-১।