চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড|114573|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড
শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড

এক বছরে সর্বোচ্চ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড করেছে দেশের সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর। ২০১৮ সাল শেষে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৩ টিইইউস। বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ইতিবাচক ফল এসেছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে।

বন্দরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর মোট ২৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এটি এ পর্যন্ত এক বছরের সর্বোচ্চ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড। আগের বছর (২০১৭) বন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৩ টিইইউস কন্টেইনার। ২০১৮ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের ৯২ শতাংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির একটি প্রভাব সবসময় চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। তাছাড়া ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, কি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, নতুন জনবল নিয়োগের কারণে বন্দরের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সবের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের খ্যাতনামা শিপিং বিষয়ক সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর ২০১৮ সালের সংস্করণে বিশ্বের শীর্ষ একশ’টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৭০তম স্থানে উঠেছে। বিদায়ী বছরের রেকর্ড পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সংস্করণে তা আরো ওপরে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জানা যায়, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে ছয়টি নতুন কি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ বেশ কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) স্থাপিত এসব যন্ত্রপাতির কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। এসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর গত বছর ১ ডিসেম্বর বন্দরের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়। এদিন ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৪৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় বন্দরে।

এছাড়া আগে কন্টেইনার ইয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় অনেক সময় কন্টেইনার জট লেগে যেত। বন্ধের কারণে ডেলিভারি কমে গেলে অতিরিক্ত কন্টেইনারের কারণে ভেতরে অপারেশনাল কর্মকা- ব্যাহত হতো। নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ করায় ২০১৮ সালে বন্দরের কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে বন্দরের সবগুলো ইয়ার্ড মিলে মোট কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ছিল ৩৬ হাজার ৩৫৭ টিইইউস। বর্তমানে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। এর ফলে ডেলিভারি কমলেও অপারেশনাল কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না বলে জানান বন্দর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিগত পাঁচটি অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৫০৯ টিইইউস, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬২ টিইইউস, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ টিইইউস, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮১ টিইইউস এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়।

বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মো. সরওয়ারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় নির্বাচন, ব্যাংক হলিডে, ট্রেইলর ধর্মঘট, পরিবহন ধর্মঘট ইত্যাদি কারণে গত বছর ৮ থেকে ১০ দিন অপারেশনাল কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তা না হলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৩০ লাখ টিইইউস ছাড়িয়ে যেত।