মন্ত্রিসভা নিয়ে মুখে কুলুপ|114590|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
মন্ত্রিসভা নিয়ে মুখে কুলুপ
প্রতীক ইজাজ

মন্ত্রিসভা নিয়ে মুখে কুলুপ

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাওয়া আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা এবার কেমন হবেÑ এ নিয়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা রাজনৈতিক অঙ্গনে। নতুন মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, এই মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, পুরোনোদের মধ্যে কারা বাদ পড়ছেন, নতুন করেই বা কারা আসছেন, কে পাচ্ছেন কোন দপ্তরÑ এমন আলোচনা এখন চারদিকে। আওয়ামী লীগ

নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকদের মধ্য থেকে কয়জনকে ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বাইরে টেকনোক্র্যাট কোটা থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হতে পারে কি না- আলোচনা চলছে তা নিয়েও।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়ায় আলোচনা হচ্ছে সরকারের ধরন নিয়েও। বর্তমান সরকারের মতো এবারও জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দল ও মন্ত্রিসভা- দুই জায়গায় থাকবে কি না এখনো স্পষ্ট নয় তাও। জাতীয় পার্টি বলছে, তারা মহাজোটে থাকবে। কিন্তু সরকারে নাকি বিরোধী দলে থাকবে, সে সিদ্ধান্ত হবে আজ বুধবার দলের যৌথসভায়। সে ক্ষেত্রে সরকারে গেলে জাতীয় পার্টির কয়জনকে মন্ত্রী করা হতে পারেÑ সে আলোচনাও রয়েছে।

এ নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে নারাজ আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতারা। গণমাধ্যমে নাম আসার কারণে পাছে প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হন ও মন্ত্রীর তালিকা থেকে বাদ দেন- সে ভয়ে কেউ কথাও বলতে চাইছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কয়েকজন নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, এরমধ্যেই সরকার গঠনের কাজ গুছিয়ে এনেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভায় কাকে রাখবেন, বাদ দেবেন, সে তালিকাও তার কাছে। সুতরাং কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে কিছু জানলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না। নাম চলে এলে যদি প্রধানমন্ত্রী ভাবেন যে তিনি মন্ত্রী হওয়ার জন্য নাম প্রচার করছেন, তাই চুপচাপ রয়েছেন সবাই।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা ও শরিক দলের এক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এবার মন্ত্রিসভার আকারে বড় পরিবর্তন আনবেন শেখ হাসিনা। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাও বাড়তে পারে। কারণ বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় এবার সবার মধ্যেই মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন জেগেছে। বর্তমানে যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তারা পুনরায় মন্ত্রী হতে চান। ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় যাদের স্থান হয়নি এমন পুরোনো মন্ত্রীরাও মন্ত্রিসভায় থাকতে চান। পাশাপাশি নতুন যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারাও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ও নানা কারণে সমালোচিত হয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা থেকে তারা বাদ পড়তে পারেন। এবার নতুন মুখ ও তরুণদের প্রাধান্য থাকতে পারে মন্ত্রিসভায়। দলের ভাবমূর্তি ভালো-এমন নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণ করে এবার দল ও সরকারকে আলাদা করার কাজ শুরু করতে পারেন শেখ হাসিনা।  সে অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। তবে বয়োজ্যেষ্ঠদের পরিবর্তে নতুন মুখ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে হবে শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভা।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গত দুইবার যারা মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তাদের অনেকেই এবার বাদ যাবেন, এমনটাই আলোচনা সব জায়গায়। আবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা এবং তদবির করছেন। দলের এই নিরঙ্কুশ জয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে অনেকেই মরিয়া। অর্থমন্ত্রী হিসেবে ড. আবুল মোমেনের নাম শোনা যাচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, শাহরিয়ার আলম, ডা. দীপু মনি, জাসদের হাসানুল হক ইনু ও জেপির (জাতীয় পার্টি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম শোনা যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভায়। আবার জাতীয় পার্টি থেকেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা পুনরায় মন্ত্রী হতে পারেন। মন্ত্রীর তালিকায় পুরোনোদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও নতুনের মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে। যে সব হেভিওয়েট প্রার্থী এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, তাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গত সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শপথ নেবেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান সরকারের এই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রিসভা গঠন করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন মন্ত্রী বানাবেন। এখানে কারো কোনো হাত নেই। আমরা কিছু জানিও না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, মন্ত্রীদের তালিকা নেত্রী (শেখ হাসিনা) ঠিক করে রেখেছেন। তার হাতেই সব।

এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর আনকোরা নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে সবাইকে চমকে দেন শেখ হাসিনা। পরে ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় ২০০৮ সালের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বাদ দেন। সে বছরের ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। কয়েক দফা রদবদলের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২। মন্ত্রীর পদমর্র্যাদাসম্পন্ন পাঁচজনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও করা হয়।