logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
মালিবাগে তা-ব
বাসচাপায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাসচাপায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর মালিবাগে গতকাল বাসচাপায় দুই নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় রাস্তা অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুর করে তাদের বিক্ষুব্ধ সহকর্মীরা -রুবেল রশীদ

রাজধানীর মালিবাগে যাত্রীবাহী বাসের নিচে চাপা পড়ে দুই নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। তারা অর্ধশতাধিক বাস ও প্রাইভেট গাড়ি ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেন। তাদের সঙ্গে দফায় দফায় পুলিশের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের লাঠিপেটায় ও শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রমিকদের লাঠিপেটা    করে সরিয়ে দেওয়ার পর মৌচাক-রামপুরা সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর আগে দুপুর ১টার দিকে মালিবাগের আবুল হোটেলের সামনে বাসের চাপায় এএসএম গার্মেন্টসের কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর নাহিদ পারভিন পলি (২০) ও হেলপার মীম আক্তারকে (১৬) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

রামপুরা জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট শুভ কুমার দেশ রূপান্তরকে জানান, রাস্তা পারাপারের সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস মীম ও পলিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।

সহকর্মীর মৃত্যুর খবর শুনে আশপাশের গার্মেন্টসগুলো থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। আবুল হোটেলের সামনে কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। আবুল হোটেল, চৌধুরীপাড়া, রামপুরা ও আশপাশের এলাকায় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভের কারণে রামপুরা ব্রিজ থেকে মৌচাক পর্যন্ত অভিমুখী সড়কে যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, মালিবাগ, রামপুরা ও হাতিরঝিল এলাকায় ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। অনেককে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফজলুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে, তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে মতিঝিল বিভাগের এডিসি নাজমুন নাহারসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

হাসপাতালে সজল গায়েন নামে নিহত দুই শ্রমিকের এক সহকর্মী জানান, পলি ও মীম

রমনা মগবাজার পূর্ব নয়াটোলা এলাকার মেসে ভাড়া থাকত এবং মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় এএসএম ফ্যাশন নামের একটি পোশাককারখানায় কাজ করত। পলি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ভাসানী রোডের এজাজ আহমেদের মেয়ে। মীম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে। মঙ্গলবার দুপুরে বাসা থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে রাস্তা পার হয়ে কারখানায় ফেরার পথে পলি ও মীমকে চাপা দেয় বাসটি।

মোশাররফ হোসেন নামে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাসটি প্রথমে পলিকে চাপা দেয়। সে চাকার নিচে চলে গেলেও বাসটি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে রাস্তার পাশে থাকা মীমকে চাপা দেয়। এতে দুজনই চাকার নিচে চাপা পড়ে।