নোয়াখালীতে গণধর্ষণ: এজাহারভুক্ত ১নং আসামি গ্রেপ্তার|114661|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:২৬
নোয়াখালীতে গণধর্ষণ: এজাহারভুক্ত ১নং আসামি গ্রেপ্তার
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীতে গণধর্ষণ: এজাহারভুক্ত ১নং আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের দিন রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১নং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ নিয়ে ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলায় নেতৃত্বদানকারী রুহুল আমিন মেম্বারকে বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করার অভিযোগ করেছেন বাদী সিরাজ মিয়া।

পুলিশ জানায়, এজাহারের ১নং আসামি সোহেলকে (৩৫) কুমিল্লার বরুরা থেকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার দুপুরে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোহেল সুবর্ণচরের মধ্য বাগ্যা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে। গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে স্বপন (৩৫) ও আহমদ উল্লার ছেলে বাসু (৪০)। এছাড়া আসামি হানিফ, চৌধুরী, বেচু, আবুল, মোশাররফ, সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার তদন্তে ঢাকা থেকে মানবাধিকার কাউন্সিলের তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম বুধবার নোয়াখালী পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর পরিচালক দায়রা জজ আল-মাহমুদ ফায়জুল কবিরের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- কমিশনের সহকারী পরিচালক সুস্মিতা পাইক ও গাজী সালাউদ্দিন।

তারা বুধবার সকাল ১১ টায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উৎপল চৌধুরী এর সঙ্গে কথা বলার পর চরজব্বার থানার ওসি মিজান উদ্দিনের জবানবন্দি নেন। এরপর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফের সঙ্গে কথা বলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ২নং ওয়ার্ডে গিয়ে ভিকটিমকে দেখতে যান। সেখানে তারা ভিকটিমের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। এরপর কমিটি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে একে একে ধর্ষিতার স্বামী সিরাজ মিয়া ও ছেলে আবদুল কুদ্দুছ এর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সিরাজ মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি রুহুল আমিন মেম্বারকে মামলার আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক দায়রা জজ আল-মাহমুদ বলেন, ভিকটিমকে দেখেছি ও কথা বলেছি, তার স্বামী মামলার বাদী সিরাজ মিয়া এবং তার ছেলের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। চরজব্বার থানার ওসির সঙ্গে ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঢাকা ফিরে গিয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সাংবাদিকদের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনা বীভৎস ও হৃদয় বিদারক আর বেশি কিছু বলব না।

ভিকটিম জানান, রোববার ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ভোটকেন্দ্রেই দলবল নিয়ে চরজব্বার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন তাকে রাতে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর ১০টার দিকে রুহুল আমিন পুলিশ এসেছে বলে তার স্বামীকে ডাক দেয়।

তিনি বলেন, দরজা খোলার পর আওয়ামী লীগকর্মী সোহেল, আবু, বেচু, হেঞ্জু, মোশাররফ, সালাউদ্দিন, চৌধুরী, সোহাগ, সোহেল ও আরও কয়েকজন ঘরে ঢুকে তার স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে বেঁধে ফেলে। পরে একে একে সবাই তাকে ধর্ষণ করে।