মেট্রোরেলের আদলে হবে মূল ফটক |114663|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:৪৭
৯ জানুয়ারি বাণিজ্য মেলা শুরুর জোর প্রস্তুতি
মেট্রোরেলের আদলে হবে মূল ফটক
প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেলের আদলে হবে মূল ফটক

চলছে বাণিজ্যমেলার জোর প্রস্তুতি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে অস্থায়ী মাঠে প্রতিবছরের পহেলা জানুয়ারি শুরু হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবার সেটা পিছিয়ে শুরু হচ্ছে নয় জানুয়ারি। চলবে পুরো এক মাস। সে হিসাবে শেষ হওয়ার কথা আট ফেব্রুয়ারি। জানা গেছে, এবার মেলার মূল ফটক তৈরি হবে মেট্রোরেলের আদলে। 

মেলার সদস্য সচিব মো. আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে মেলা শুরু না হলেও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে চলছে। মেলার মূল ফটক তৈরি করা হবে মেট্রোরেলের আদলে। আগেরবার করা হয়েছিল পদ্মাসেতুর স্প্যানের আদলে।
 
তিনি আরো বলেন, মেলায় সুন্দরবনের উপস্থিতি ছাড়াও সরকারের উন্নয়ন নানা উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হবে। থাকবে নানা ধরনের বিলবোর্ড। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকে। স্টল বরাদ্দের কাজ শেষ। এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছে ৪৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার মেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির কাজে ব্যস্ত বেশ কিছু শ্রমিক। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল নির্মাণের তদারকি করছেন আদিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। আদিল ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কর্ণধার তিনি। দেশ রূপান্তরকে আদিল হোসেন বলেন, কাজ এখনো কিছু বাকি আছে। তবে মেলা শুরু হওয়ার আগেই শেষ করা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানটি মেলার প্রথম দিন থেকে তাদের পণ্যের প্রদর্শনী শুরু করতে চায়।
 
ইপিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের মেলায় ভিন্ন আঙ্গিক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মেলার প্রধান ফটকেও আসবে পরিবর্তন। এ ছাড়া মেলার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য খোলামেলা রাখা হবে। যাতে পরিবার ও পরিজনদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারে। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক করা হবে। থাকবে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি)। এর মাধ্যমে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন অতি সহজে খুঁজে বের করতে পারবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার অবকাঠামো কাজের মধ্যে টিকিট বক্স তৈরি হয়ে গেছে। ওয়াচ টাওয়ার তৈরির কাজও প্রায় শেষ। এখন চলছে মূল ফটক তৈরির কাজ। অন্যদিকে মেলার সচিবালয় ও ট্রাফিক পুলিশদের জন্য স্থাপনা নির্মাণও শেষ হয়েছে। তবে ভেতরে ইটের রাস্তা তৈরির কাজ এখনো চলছে। 

মেলা কমিটির সদস্য আবু হেনা মুর্শেদ জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাজ নিয়ম অনুসারেই করা হচ্ছে। নির্বাচনের কারণে একটু ধীরগতি ছিল। এখন আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে। ৯ তারিখের আগের অবকাঠামোগত সব কাজ শেষ হবে।

জানা গেছে, এবারের মেলায় ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, হংকংসহ মোট ৪৩টি দেশ তাদের পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় দেশি-বিদেশি মিলে ৫৫০ প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। নতুন চার-পাঁচটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। আর মেলায় একক দেশকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি রাখা হবে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। 

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, মেলায় থাকছে মা ও শিশুকেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ। থাকছে রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। আরো থাকবে তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী। থাকবে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল।
ইপিবি সূত্রে আরো জানা যায়, মেলায় সংরক্ষিত মহিলা স্টল থাকবে ২০, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭, রেস্টুরেন্ট ৩, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯, বিদেশি প্রিমিয়াম স্টল ১৩, সাধারণ স্টল ২০১ ও ফুড স্টল ২২টি। এ পর্যন্ত ৫২১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মেলায় থাকবে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা।