বাড়িভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি|114673|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
বাড়িভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি
ঋত্বিক নয়ন, চট্টগ্রাম

বাড়িভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি

আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিবছর ভাড়া বাড়ান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাড়িওয়ালারা। এবারও নতুন বছরের আগমনে আনন্দের পাশাপাশি অস্বস্তি রয়েছে ভাড়াটিয়াদের মনে। আবার যেকোনো অজুহাতে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু করতে পারে বাড়ির মালিকরা।

নগরীতে ভাড়াটিয়া রয়েছে প্রায় ৫২ লাখ। কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই থাকতে হয় ভাড়া বাসায়। থাকেন শিক্ষার্থীরাও। স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসাতেই থাকতে হয় তাদের। এই সুযোগটাই বাড়ির মালিকরা কাজে লাগান বলে অভিযোগ ভাড়াটিয়াদের। তবে বাড়িওয়ালারা বলছেন, প্রতিবছর বিদ্যুৎ, পানিসহ নানা বিল, দ্রব্যমূল্যসহ অন্যান্য খরচ বাড়ায় তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হন। অনেক বাড়িওয়ালার জীবিকা ভাড়ানির্ভর হওয়ায় এছাড়া তাদের উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, খরচ যা বাড়ে ভাড়া বাড়ে তার দ্বিগুণ।

বাকলিয়া বউবাজার এলাকায় ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়ায় এক রুম নিয়ে থাকেন পোশাকশ্রমিক রুপা, আয়েশা ও বিউটি। নতুন বছর আসতেই বাড়িওয়ালা ঘর ছেড়ে দিতে বলেছে। নতুন করে বাসা খোঁজা তাদের জন্য আরেক বিপদ। মেয়েরা একা থাকতে গেলে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অভিভাবক না থাকায় অনেকেই ভাড়া দিতে চান না। এ বিষয়ে রুপা বলেন, ‘অভিভাবক কইতেই হেরা বুজে বাপ বা স্বামী। না থাকলি সন্দ (সন্দেহ) করে। মনে করে আমরা খারাপ।’

সংস্কৃতিকর্মী সুনীল ধর জানান বাড়িভাড়া নিয়ে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। পাথরঘাটা এলাকায় চুক্তি করে তিনি বাড়ি ভাড়া নেন। অগ্রিম ৩০ হাজার, মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাড়া। প্রথম মাসের ভাড়া দিতে গিয়েই ঝামেলা বাধে। বাড়িওয়ালা ভাড়ার রসিদ দেবেন না, সুনীলও রসিদ ছাড়া ভাড়া দেবেন না। এভাবে ছয় মাস চলার পর বাসা ছেড়ে দেন সুনীল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভোক্তা সমিতি (ক্যাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান এসএম নাজের হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়ছে। এসবের লাগাম টানতে দেশে বিভিন্ন আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। তাই বাড়ির মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। আর দোকানিরা ইচ্ছেমতো নিচ্ছে জিনিসের দাম।’

এ ধারা পাল্টাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, সরকারকে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সব শ্রেণির মানুষকে সচেতন হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে হতে হবে ঐক্যবদ্ধ।’

নগরীতে গত পাঁচ-ছয় বছরে অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৫ সালে যে বাড়ির ভাড়া ১৫ হাজার টাকা ছিল, এখন তা ২৫ হাজার টাকার ওপরে। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। এ বিষয়টি তদারকির কোনো ব্যবস্থাও নেই। বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে চুক্তি সই এবং এ বিষয়ে পাকা রসিদ দেওয়ার ঘটনাও অনিয়মিত। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘ঘর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ নামে একটি আইন রয়েছে। আইনে উল্লেখ রয়েছে, ভাড়ার রসিদ না দিলে দুই মাসের ভাড়ার সমান জরিমানা করা হবে। আর এলাকায় মান অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানো যাবে। তবে কী পরিমাণ বাড়ানো যাবে তা আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এছাড়া দুই মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।’