তাইওয়ানকে একীভূত হতেই হবে : চীন|114692|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
তাইওয়ানকে একীভূত হতেই হবে : চীন
রূপান্তর ডেস্ক

তাইওয়ানকে একীভূত হতেই হবে : চীন

চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনর্মিলন অনিবার্য বলে গতকাল বুধবার মন্তব্য করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাওয়া এবং পাওয়ার সকল সম্ভাবনা নাকচ করে প্রয়োজনে সেনাশক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। চীন এখনো গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজের ভূখন্ডের অংশ মনে করে। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চীন এবং তাইওয়ান উভয়েই স্বতন্ত্রভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে।

তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় জিনপিং বলেন, ‘চীন অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হবে। চীনের জনগণের নতুন যুগে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই মহান পুনর্মিলন অনিবার্য। আমরা সেনাশক্তি প্রয়োগ না করার কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি। প্রয়োজনে সকল পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, শি জিনপিং এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য এবং তাইওয়ানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের কথিত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ এবং ‘বিদেশি শক্তিকে’ তাইওয়ানে চীনের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছেন।

জিনপিং তার বক্তব্যে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থার’ আওতায় একত্রীকরণের কথা বলেন। তাইওয়ানের জনগণের সকল স্বার্থরক্ষা করেই একত্রীকরণের পথে হাঁটা হবে বলেও জানান তিনি।

তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। এর নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র রাজনৈতিক এবং বিচারব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মূলভূমি চীনের থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি দেশটি। দুই বছর আগে তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাই ইং ওয়েন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হতে থাকে। গত মঙ্গলবার ওয়েন বেইজিংকে সতর্ক করে জানান, তাইওয়ানের মানুষ কখনো পরাধীনতা মানবে না। বেইজিংকে অবশ্যই ২৩ মিলিয়ন মানুষের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানাতে হবে এবং আমাদের পার্থক্য নির্ধারণে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলেও তিনি জানান। ন্যাশনাল তাইওয়ান নরমাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতিবিষয়ক গবেষক ফ্যান শিহ পিংয়ের মতে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান অন্তরীপে বেশ কয়েকটি জাহাজ পাঠায় যাকে চীন তার ভূসীমায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য রাষ্ট্রগুলো ওই জলসীমাকে আন্তর্জাতিক মুক্তাঞ্চল হিসেবে দেখে। ওয়াশিংটন অনেকদিন ধরেই তাইপের অনানুষ্ঠানিক মিত্র এবং মূল অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

গত অক্টোবরে গণতন্ত্রের বিশ বছর পূর্তিতে তাইওয়ানের কয়েক হাজার স্বাধীনতাপন্থি স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় স্বাধীনতার পক্ষে ভোটগ্রহণের আহ্বান জানায়। কিন্তু তাইওয়ানের অনেক জনগণই মনে করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের ফলে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে পেনশন ফান্ড এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রকল্পে আঘাতের ফলে দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সূত্র : এএফপি