দুই বন্ধুর ভিন্ন ফেরা|114743|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
দুই বন্ধুর ভিন্ন ফেরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দুই বন্ধুর ভিন্ন ফেরা

দুই বন্ধুর দেখা গতকাল মিরপুরে। নতুন পরিচয়ের মাশরাফীকে অভিনন্দন জানালেন বিপিএলে ফেরা আশরাফুলহ নাজমুল হক

‘ও মাই ফ্রেইন্ড’। কণ্ঠে জোর উচ্ছ্বাস নিয়ে ছোট জিমটার দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখেন মোহাম্মদ আশরাফুল। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তখন পায়ে ওয়েট নিচ্ছেন। ‘এমপি সাহেব। এমপি সাহেব’ বাংলাদেশ অধিনায়কের নতুন পরিচয় ধরে হাঁক দিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন আশরাফুল। কতদিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা। বিপিএলের খেলোয়াড় হিসেবেও এই দেখা। কিন্তু সময়ের ফেরে সবকিছু এখন ভিন্নরকম।

মাশরাফীর জন্য গতকাল সকাল থেকেই মিরপুরে বিশেষ করে ক্যামেরা পারসনদের অপেক্ষা। ছবিটা যেন মিস না হয়। দুপুরের দিকে ‘এমপি’ মাশরাফী প্রথমবারের মতো চেনা মিরপুরে ঢোকেন। ‘নিতা আসতিছে’ নড়াইলের উচ্চারণে একজন বলেন। ততক্ষণে তার আসার পথজুড়ে ক্যামেরার দুর্ভেদ্য দেয়াল। শাহাদাত হোসেন রাজীবেরও ওই দেয়াল ভেঙে সামনে যেতে সময় লাগে। মাঠে তখন বিপিএলের তিনটি দলের অনুশীলন। সব ফেলে মাশরাফীর দিকেই ঘুরে যায় মিরপুর। যেমন কদিন আগের নির্বাচনে ঘুরে গিয়েছিল দেশটারই নজর। আর ভিন্ন এক লড়াইয়ে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে জিতে এদিন ক্রিকেট ঘরে পা রাখলেন।

আশরাফুল আর মাশরাফীর একই বছরে (২০০১) কয়েক মাসের ব্যবধানে জাতীয় দলে অভিষেক। গল্পের মেজাজেই জিমে আশরাফুল স্মৃতিমেদুর, ‘আমাদের লাগেজ আর সবকিছু থাকত এক রুমে। আমরা থাকতাম এক রুমে। আর গান’ সায় দেওয়া হাসি হাসেন মাশরাফী।

দুজন উদাহরণ দেওয়ার মতো বন্ধু ছিলেন একসময়। কিন্তু তাদের এদিনের মাঠে ফেরা একেবারেই ভিন্ন রকমের। একজন এক চূড়া থেকে আরেকটিতে পা রেখে উঠেই যাচ্ছেন। সাফল্য-সুখ্যাতির শিখর স্পর্শ করার নেশায়। সবার চোখে যার জন্য সমীহ আর শ্রদ্ধা কেবলই বাড়ে। অন্যজন অনেক আগেই সুখ্যাতি থেকে কুখ্যাতিতে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। ফিরেছেন সেই কলঙ্কের দায় মিটিয়ে। এখনো বাঁকা চোখের কাঁটা হয়তো ক্ষতবিক্ষত করে।এদিন মাশরাফীর চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স অনুশীলন করল না। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে নির্বাচনের ব্যস্ততায় তো মাঠের বাইরে। শরীরে জং-টং পড়েছে কি না জিমে তা পরখ করেন মাশরাফী।

আর এটি আক্ষরিক অর্থেই আশরাফুলের মুক্তির দিন। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ২০১৩ সাল থেকে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ ছিলেন বিপিএল ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। বিপিএলে কাণ্ডটা ঘটিয়েছিলেন। নিজের সময়ে বিশ্বসেরা তরুণ ব্যাটসম্যান আশরাফুল গেল আগস্টে নিষেধাজ্ঞা শেষ করেছেন। আগে ফার্স্ট ক্লাসের নিষেধাজ্ঞা কেটেছে। এখন বিপিএলের। আন্তর্জাতিকের। বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের তিনি। মাঠে ফিরে ব্যাটসম্যান নস্টালজিক, আবেগপ্রবণ হন।তাকে স্বাগতও জানান সবাই। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন তার সাবেক ক্যাপ্টেনকে। মুহূর্তের ঘটনা। ক্যামেরা আর মোবাইলের পেছনের অনেকগুলো হাতের ঘটনাটা মিস করে ফেলার আক্ষেপ।আর আশরাফুলের আক্ষেপ জীবন থেকে এতগুলো দামি বছর হারিয়ে ফেলার। তবে এখন নিজেকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানোর ইচ্ছে তার, ‘যদি ফিরে আসতে পারি আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা একটি উদাহরণ তৈরি হবে যে দীর্ঘ সময় বাইরে থেকেও আবার পারফরম্যান্স দিয়ে ফিরে আসা যায়।’ এ চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন আশরাফুল।

৫ বছর ৯ মাস পর বিপিএলে ফিরেছেন। দুবার খেলেছেন। দুবারই চ্যাম্পিয়ন। বিপিএল সরাসরি সম্প্রচারে সবার কাছে পৌঁছে বলেই এখানে আরও ভালো পারফর্ম করার প্রেরণা তার। বয়স ৩৪ হলেও জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য তো আছেই, ‘আমি আসলে এর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম গত পাঁচটি বছর।’ আশরাফুল বলছিলেন, ‘এটা সত্যি কথা যে বাংলাদেশ দলের জার্সিটি আবার পরতে চাই। সেটার জন্য সব থেকে বড় প্ল্যাটফরম এটি।’
তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১৫ মিস হয়েছে। ২০১৯ সামনে। তার মনের কোণে সম্ভাবনা উঁকি দেয়, ‘যদিও আমি সেটি নিয়ে চিন্তা করছি না। তারপরও মনে করি যে আমি যদি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি আমার অভিজ্ঞতাগুলো কাউন্ট করতে পারে।’