আন্দোলনে যারা ব্যর্থ তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী|116236|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৩
আন্দোলনে যারা ব্যর্থ তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

আন্দোলনে যারা ব্যর্থ তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস

নির্বাচনে বিএনপি’র পরাজয়ের কারণ তাদেরই ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনে যারা ব্যর্থ হয় তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে না, এটাই বাস্তবতা। খবর বাসস

২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা তাদের অবরোধ ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত কিন্তু আর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি। কারণ জনগণ আর তাদের কোনো ধর্তব্যের মধ্যেই নেয়নি। জনরোষের কারণে তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এসব বলেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের এ দিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার স্বাধীন স্বদেশ ভূমে ফিরে আসেন। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পূর্ণতা লাভ করে।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভাটি সঞ্চালনা করেন।

শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, ‘তারা (বিএনপি) যে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। ৩ হাজার ৯শ’র ওপর গাড়ি ভাংচুর করেছে। সাড়ে ৩ হাজারের ওপর মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। ৫শ’র কাছাকাছি মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ছোট্ট শিশু থেকে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী কেউ বাদ যায়নি। তাদের রুদ্ররোষ থেকে শুধু মানুষ নয় গাছপালাও রেহাই পায়নি। গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, রেল লাইনের ফিস প্লেট খুলে ফেলেছে।এই অপকর্মের পর তারা কীভাবে আশা করতে পারে জনগণ আবার তাদের ভোট দেবে।’

এ সময় খালেদা জিয়ার এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ মামলায় কারাগারে আটক থাকার পাশাপাশি একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপাসন করায় নেতৃত্বের শূন্যতা, বিএনপি’র নির্বাচনে পরাজয়ের একটি প্রধানতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের দলে কি এমন ভালো মানুষ নেই যাকে তারা চেয়ারপারসন বানাতে পারে, তারা বানাল একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে।’

দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে কেবল অর্থের বিনিময়ে অনেক অখ্যাত, স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক একটা সিটে ৪/ ৫ জন করে মনোনয়ন, যে বেশি টাকা দিচ্ছে তাকেই দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগে যে টাকা দিয়েছে দেখা গেল তার থেকে বেশি দিয়ে আরেকজন মনোনয়ন নিয়ে গেছে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যখন সিট অকশনে (নিলাম) দেওয়া হয় তখন তারা নির্বাচনে জেতে কীভাবে?’

কেবল যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি যে সব আসন হারিয়েছে তার উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম তিনি মনোনয়ন পেলে তো জিতবেনই। কিন্তু তাকে না দিয়ে যে বেশি টাকা দিল তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো। নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হলো না, চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানকে না দিয়ে যে ভালো টাকা দিল তাকেই মনোনয়ন দিল।

এসব মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনেকে তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করে এসব কথা জানিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করে বিদেশে অবস্থানরত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ভাইয়াকে আবার পাউন্ডে সেখানে পেমেন্ট করতে হবে।’

শেখ হাসিনা এ সময় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি’র ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘যেখানে উচ্চ আদালত থেকে একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী, সেই জামাতের ২৫ জনই মনোনয়ন পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীকে ভোট দেবে না। ভোট তারা দিতে চায়ও না। ভোটও দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘যাদের কোনো রাজনীতিই নেই। কেবল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা, অগ্নি সন্ত্রাস এবং মানুষ হত্যা যাদের নীতি তারা জেতার আশা কীভাবে করে?’

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা জানতে পারেননি বঙ্গবন্ধু কি বেঁচে আছেন, না নেই। অথচ পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের সদস্যদের কাছে না গিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে যে দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সে অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে।