‘সব জেলা-উপজেলাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনব’|116355|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:০৮
‘সব জেলা-উপজেলাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনব’

‘সব জেলা-উপজেলাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনব’

প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। টেলিভিশন টক শোতে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তাকে সবসময় সোচ্চার দেখা গেছে। ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। রেজাউল করিম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পেশাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা সুইটি

দেশ রূপান্তর : প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন, চ্যালেঞ্জ কি একটু বেশি মনে হচ্ছে?

রেজাউল করিম : আমি আগে নির্বাচন না করলেও রাজনীতির সঙ্গে বলতে গেলে সারা জীবনই যুক্ত। তাছাড়া আইনজীবী হিসেবে প্রশাসনিক অনেক বিষয় আমার জানা। পুরনো মন্ত্রী হলেও নতুন কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ বুঝে নিতে যে কারোই সময় লাগার কথা। সেই সময়টা আমারও লাগবে। কাজেই সেই দিক থেকে প্রথম মন্ত্রিসভায় এসেছি বলে আলাদা কোনো চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করি না। তবে এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি ও বিতর্কমুক্ত রাখার চ্যালেঞ্জ একজন মন্ত্রী হিসেবে থাকবে। দায়িত্ব নেওয়ার পরই আমি সচিবসহ সবার সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। আমি আশা করছি দেশের ভালোর জন্য এবং জনগণের সেবার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এরমধ্যে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, আমাদের সরকারের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে দুর্নীতি দূর করা। দুর্নীতি দূর না করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর যে একুশ শতকের ডেল্টা প্ল্যান এবং সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান- সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

দেশ রূপান্তর : মন্ত্রণালয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

রেজাউল করিম : দেখুন মাত্র তো দায়িত্ব নিয়েছি। কয়েক দিন সময় লাগবে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে। তবে বিগত সময়ের কাজগুলো যেন দ্রুত হয় সেই চেষ্টা করব। যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত বড় ও চ্যালেঞ্জিং একটি মন্ত্রণালয়। বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, কাজের পরিসরও অনেক। এসব অনিয়ম দূর করা হবে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে গুরুত্ব থাকবে কোনো অবস্থাতেই যেন পয়েন্ট জিরো জিরো ওয়ানও দুর্নীতি না হয়। দুর্নীতি না হলেই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব। মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর গতি ও সততাকে পাথেয় হিসেবে নিয়ে দায়িত্ব পালন করব। উন্নয়ন এবং মানুষের জীবন মানে গ্রাম আর শহরের যে পার্থক্য রয়েছে তার দূরত্ব কমিয়ে আনব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, এটা অবশ্যই আনন্দের। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা। দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকেই কাজ করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : গ্রাম ও শহরের পার্থক্য এবং বৈষম্য দূরীকরণে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

রেজাউল করিম : এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেখ হাসিনার রূপকল্পই হলো প্রত্যেকটি গ্রামকে শহরের সুবিধা দেওয়া। এরমধ্যে অনেক প্রকল্প চলছে। আমরা নতুন করে আরো প্রকল্প হাতে নেব। যেন শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী- এসব বড় শহরে মানুষ উন্নত জীবনের জন্য এসে ভিড় না করে। আর মফস্বলে কেউ থাকতে চায় না। সব জেলা-উপজেলাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনব। মনে হতে পারে এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েই কাজ করতে চাই। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যারা সফল তারাই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। আমিও তাই পছন্দ করি। সামনের দিনগুলো হবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের। আবার নতুন এই বছরটা হবে সুখকর। এদেশের মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে আমাদের যে মর্যাদা দিয়েছে আমরা সেই মর্যাদা রাখব। যেদিন থেকে মন্ত্রী হয়েছি, আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। জনগণের জন্য ভালোটাই করব।

দেশ রূপান্তর : বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আবাসন ব্যবস্থার জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

রেজাউল করিম : এই চিন্তা আমার একার নয়। অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান-এই তিনটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে কাজ করে গেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে কাজ করেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করার অনেক প্রকল্প রয়েছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আপনারা দেখছেন, দেশে এখন কুঁড়েঘর দেখা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দেখা যায় পাকা বাড়ি। মানুষের মধ্যে স্বপ্ন তৈরি করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। সারা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অর্থনীতির এই প্রবাহ শহর থেকে গ্রামে সবখানে বিরাজমান। আমি হলফ করে বলতে পারি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এদেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ আবাসন পাবে।

দেশ রূপান্তর : এই মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তা আপনি কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

রেজাউল করিম : আমি নিজে শতভাগ সৎ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও আমি এই চর্চা করেছি। অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো আপোস করিনি, করবও না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আইন পেশায়ও আমি দেশের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ন না হয় সেভাবেই কাজ করেছি। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাকে কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আপনারা হয়তো জানেন না, আমি কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার জন্য কোথাও কারও কাছে এক সেকেন্ডের জন্যও তদবির করিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি সারাজীবন অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। বাকি জীবনও করে যাব।