সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পদক পাচ্ছেন পুলিশকর্তারা|117101|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৪৩
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পদক পাচ্ছেন পুলিশকর্তারা
প্রিন্ট সংস্করণ

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পদক পাচ্ছেন পুলিশকর্তারা

সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পুরস্কারের জন্য তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ছবি: দেশ রূপান্তর

‘আন্তর্জাতিক মানের, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করায় ‘থ্যাংকস লেটারের’ পর এবার পুলিশ পদক পাচ্ছেন আট রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও সব পুলিশ সুপার (এসপি)। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ, ২০১৯-এর প্রথম দিন এ পদক দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গঠিত কমিটি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। এ ছাড়া সারা বছর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস, মাদক নির্মূলসহ সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদেরও পদক দেওয়া হচ্ছে এবার। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে তালিকাটি চূড়ান্ত হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পুরস্কারের জন্য তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা পদক তালিকায় বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছেন। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর একটি কমিটি করে দিয়েছে। ওই কমিটি সবকটি রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিদের নামের তালিকা তৈরি করে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ডিআইজি ও এসপিদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের নামও পদক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন মনিটরিং টিমের বেশ কয়েজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিপিএম ও পিপিএম পুরস্কার পেতে পারেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুন-অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করেছি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ পদক দেওয়া হবে কি না জানি না। তবে আমরা আশা করতেই পারি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন এসপি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভালো নির্বাচন করতে পারায় এবার আমাদের পুলিশ পদক দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।’

গত ১ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সবকটি জেলার এসপিদের ‘থ্যাংকস লেটার’ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ সফলভাবে সম্পন্ন করায় আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, নির্বাচন-পূর্ববর্তী আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তী পরিস্থিতি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে আপনি সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে অবদান রেখেছেন তা জনগণের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সর্বোত্তম প্রতিফলন।’ পরে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দেশের সব থানা ও পুলিশ সদর দপ্তরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পদকসংখ্যা থাকছে দুইশর বেশি। গত বছর ১৮২ জনকে পদক দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে পদকপ্রাপ্তদের হাতে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, এবারের পুলিশ সপ্তাহে ‘ভালো কাজের’ স্বীকৃতি পেতে পুলিশের একাধিক সদস্য পদকের জন্য জোর তদবির শুরু করেছেন। তারা রাজনৈতিক নেতাদের দিয়েও তদবির করাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে আবেদনও করছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ পুলিশ সদস্যদের পদক দেওয়া হবে। সারা বছর যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ পদক থেকে বঞ্চিতও হবেন; এখানে সদর দপ্তরের করার কিছু নেই। কারণ রাজনৈতিক নেতাদের তদবির না শুনলে কিছুটা বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে। তারা আরও জানান, কারা পদক পেতে পারেন তা স্ব স্ব ইউনিট প্রধানরা তালিকা করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে থাকেন। আর সেখান থেকে এটি পদক নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কমিটি যাচাই-বাছাই করে আইজিপির কাছে পাঠায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তালিকাটি চূড়ান্ত করেন আইজিপি।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, জঙ্গি দমন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা মোকাবিলায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তারাও পদক পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সেবাধর্মী কাজে যেসব পুলিশ সদস্য দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন তাদেরও পদক দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারে যারা সফলতা দেখিয়েছেন তাদেরও পদকপ্রাপ্তির জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।