কারখানার গেটে ‘কাজ না করলে বেতন নাই’ নোটিশ|117132|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৫২
কারখানার গেটে ‘কাজ না করলে বেতন নাই’ নোটিশ
সাভার প্রতিনিধি

কারখানার গেটে ‘কাজ না করলে বেতন নাই’ নোটিশ

টানা আট দিন বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার সাভার ও আশুলিয়ায় কাজে যোগ দেয় পোশাক শ্রমিকরা। ছবি: দেশ রূপান্তর

মজুরি কাঠামো সংশোধনের দাবিতে গড়ে ওঠা টানা আট দিনের বিক্ষোভ শেষে মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজে ফিরেছে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। সকাল ৮টায় কারখানায় প্রবেশ করে দুপুর পর্যন্ত বিরামহীনভাবে কাজ করেছে তারা। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কারখানার ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়।

তবে প্রতিটি কারখানার মূল ফটকে 'নো ওর্য়াক, নো পে’, ‘কাজ না করলে বেতন নাই' এমন নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া দিনব্যাপী শিল্প এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে বলা হয়েছে, সরকার আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তাই যারা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে চান, তারা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ করেন, পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে। যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করেন তাহলে এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও দুপুরে জামগড়া এলাকার পলমল গ্রুপের শ্রমিকরা খাবার খেয়ে কারখানায় প্রবেশের পর সবাই একযোগে বের হয়ে যায়। এর আগে পার্শ্ববর্তী সাফা সোয়েটার লিমিটেড কারখানার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ শুরু করে, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা ধীরে ধীরে বের হয়ে চলে যায়।

ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, তৈরি পোশাক শিল্পকে রক্ষায় শ্রমিক এবং মালিকদের নিরাপত্তার জন্য কারখানার সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাই কারো আতংকিত হওয়ার কারণ নাই। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, সরকার মজুরি বৃদ্ধির পর টানা আট দিনের বিক্ষোভ শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছে শ্রমিকরা। তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ইতিমধ্যে স্থানীয় বাড়ির মালিক জনপ্রতিনিধি ও গার্মেন্ট শিল্পে জড়িতদের মাধ্যমে বোঝানোর পর শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছে।

তিনি জানান, এ ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যারা শ্রমিক উসকানিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি অব্যাহত আছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক সানা সামিনুর রহমান বলেন, প্রতিটি কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করেছে শ্রমিকরা। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ র‌্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।