‘এবার বইমেলা আনন্দময় হবে’|117704|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৫৪
‘এবার বইমেলা আনন্দময় হবে’

‘এবার বইমেলা আনন্দময় হবে’

ডিসেম্বর থেকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন কবি হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী। প্রথমবারের মতো একুশে বইমেলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চেষ্টা করছেন সবকিছু সুন্দরভাবে সাজাতে। যেন মেলা প্রাঙ্গনে সবাই আনন্দময় সময় কাটাতে পারেন। সম্প্রতি তিনি দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান।  

দেশ রূপান্তর : বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে প্রথমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার দায়িত্বে আছেন। এ বিষয়েই কথা শুরু হোক।
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তবে এই বইমেলার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা নতুন না, অনেক আগে থেকেই যুক্ত লেখক হিসেবে, পাঠক হিসেবে। বাংলাদেশের মানুষ ১১ মাস অপেক্ষা করে ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলার জন্য। এই বইমেলার সঙ্গে শুধু বাংলা একাডেমি নয়, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতিসহ অনেকেই জড়িত থাকে। তার চেয়ে বড় কথা এ দেশের আপামর জনসাধারণ, বিশেষ করে ঢাকার শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ- সবাই এই বইমেলায় আসেন। সব মিলিয়ে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা।

দেশ রূপান্তর : দায়িত্ব নিয়েই বইমেলার এত বড় আয়োজন নিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন কি? এবারের মেলার প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : দায়িত্ব নেওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই এত বড় পরিসরের আয়োজনে যুক্ত হওয়ার কিছু অসুবিধা তো আছেই। তবে আমার সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে, কিছুটা মানিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে স্টল নির্বাচনের কাজ শেষ হয়েছে। ২১ জানুয়ারির মধ্যে স্টল বরাদ্দের জন্য লটারি হবে। এখন স্টল নির্মাণের অবকাঠামোর কাজ চলছে। আশা করছি ৩০ জানুয়ারির মধ্যেই স্টল নির্মাণের কাজ শেষ হবে। পরদিন ৩১ জানুয়ারি কেউ স্টলের কাজ করতে পারবেন না। পয়লা ফেব্রুয়ারিই মেলা উদ্বোধন হবে। মেলা উদ্বোধন হওয়ার পর আর কোনো প্রকাশনা সংস্থা মেলা প্রাঙ্গণে কোনো স্টলের কাজ করতে পারবেন না, মেলা শুরুর পর আর কোনো হাতুড়ির শব্দ শুনতে চাই না।

দেশ রূপান্তর : এবারের মেলায় নতুন আয়োজন বা কী ভিন্নতা থাকছে?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : মেলার মূল বিষয় ‘বিজয় বায়ান্ন থেকে একাত্তর- নবপর্যায়ে’। মেলাকে আরও নান্দনিক করার জন্য আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর ও তার দল। আমরা মেলা প্রাঙ্গণকে এমনভাবে সাজাতে চাই যেন সবাই এখানে এসে আনন্দময় সময় কাটাতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতাস্তম্ভটি এবারের মেলা প্রাঙ্গণের মূল ফোকাসে থাকবে। উদ্যানের উত্তর দিকটা খোলা থাকবে, যেন স্বাধীনতাস্তম্ভটি মেলারই অংশ মনে হয়। এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে টয়লেটের ব্যবস্থা আরেকটু উন্নত করা হবে। পাশাপাশি ফুড কর্র্নার, কফি শপ থাকবে। আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার চেয়ে একটু উন্নত মানের যেন হয় পুরো আয়োজন সেই চেষ্টা করছি।

দেশ রূপান্তর : বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে মেলায় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন কি?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : মেট্রোরেল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছে- আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তার প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষে করে তারা রাস্তা পরিষ্কার করে দেবে। ফলে মেলাতে এতে কোনো সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে হয় না।

দেশ রূপান্তর : মেলার অংশ হিসেবে প্রতিবছরই আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজন নিয়ে কিছু বলুন।
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনটি হচ্ছে না। কারণ মেলার উদ্বোধন, মাসব্যাপী বইমেলা এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন করতে গিয়ে সাহিত্য সম্মেলনটি ঠিকমতো হয় না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জুন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনটি ভিন্ন আয়োজনে করা হবে। সাহিত্য সম্মেলন সাহিত্য সম্মেলনের মতোই হবে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে অনুরোধ করেছি। আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনটি করার জন্য। সেখানে গ্রন্থকেন্দ্র একটি বইমেলার আয়োজন করবে, দেশি-বিদেশি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করবে। দেশি-বিদেশি সাহিত্যিকদের নিয়ে এই আয়োজনটি করা হবে। বাংলা একাডেমি সাহিত্য সম্মেলনটি সমন্বয় করবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রন্থমেলার পর জানাতে পারব।

দেশ রূপান্তর : কেউ কেউ অভিযোগ করেন বাংলা একাডেমি অভিধান আর অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ নিয়ে যতটা মনোযোগী, সাহিত্যের নানা মাধ্যমের সৃজনশীল বই প্রকাশে ততটা নয়। এ বিষয়ে কিছু বলবেন কি?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : বাংলা একাডেমি নানামুখী কাজ করে। তারা গবেষণার কাজ করে, সংরক্ষণের কাজ করে, প্রকাশনার কাজ করে, কালজয়ী সাহিত্যের অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ করে। পাশাপাশি আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি, আমাদের দেশের যারা সুনামধন্য লেখক-সাহিত্যিক আছেন তাদের বই প্রকাশ করা হবে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাট্যগ্রন্থসহ সব ধরনের সৃজনশীল বই প্রকাশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : এবারের মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে কি না?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : বইমেলায় দুইভাবে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার স্টলগুলো মূলত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকে। চাপটা মূলত ওই দিক থেকেই আসে। আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নার। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং কিছু স্টল রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছর যারা স্টল পেয়েছে তারা এ বছরও স্টল পেয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে বেশ কিছু স্টল এ বছর যুক্ত হয়েছে। সঠিক সংখ্যাটা কাগজ দেখে বলতে হবে, আমার মনে হয় ১৯টির মতো নতুন স্টল এবার মেলায় যুক্ত হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : মেলায় সৃজনশীল বইয়ের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আরোপ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আপনি কী বলবেন?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : বই প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশক সমিতির। তবে বাংলা একাডেমির দিক থেকে কিছু বই নিয়ে যদি সুস্পষ্ট অভিযোগ আসে তবে সেই বইটি তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে মেলা কমিটি। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকেই আমাদের একটা টাস্কফোর্স থাকবে, তারা যদি কোনো বইয়ের ব্যাপারে আপত্তির কথা বলে, তারা যদি জানায় অমুক বইটি মেলায় বিক্রির জন্য বিবেচিত নয়, তারা যদি সেটি মেলা কমিটিকে জানায় তবে মেলা কমিটি সেই বইটি মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার এখতিয়ার রাখে।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চার মান বৃদ্ধিতে এই বাংলা একাডেমি গ্রন্থমেলা কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে করেন?
হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী : সাহিত্যমান নিয়ে কথা বললে দীর্ঘ আলোচনা দরকার। আমি শুধু বলব, সাহিত্যমান উন্নয়নে এই মেলা ভূমিকা রাখছে। আর সাহিত্যমানের বিকাশে বাংলা একাডেমি একটা অংশ মাত্র। লেখক-প্রকাশক-পাঠক সবার মিলিত শক্তিতেই সাহিত্যমান বিকশিত হয়। বাংলা একাডেমির বইমেলা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে।