logo
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৫৮
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান

আমাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কাউকেই ছিনিমিনি খেলত দেওয়া হবে না উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘যে কোনো মূল্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে’।

রোববার চট্টগ্রাম মহানগরীর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুদক চেয়ারম্যান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযানে গিয়ে দেখতে পান- অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষকগণ নিয়মিত স্কুলে আসেন না। এ ছাড়া, টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ দেখানোর অভিযোগও পাওয়া যায়।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সকাল ০৯টা ১৫ মিনিটে নগরীর কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছে দেখতে পান- স্কুলের সময়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখানে সরেজমিনে দেখা যায়- স্কুলের আটজন শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপস্থিত, বাকি সাতজন শিক্ষকই অনুপস্থিত। ছাত্র-ছাত্রীরা আশপাশে আচার-চানাচুর খেয়ে অলস সময় পার করছে। অভিভাবকগণ দুদক চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে তাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

এ সময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, “আমাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কাউকেই ছিনিমিনি খেলত দেওয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে দুদক দণ্ড-বিধির ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করবে। তারপরও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতিসাধন করবেন বা করার চেষ্টা করবেন এমন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এরপরে দুদক চেয়ারম্যান যান নগরীর ভাটিয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে দেখেন ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে ২ জন শিক্ষক অনুপস্থিত। এদের অনুপস্থিতির কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ দুদক চেয়ারম্যানকে জানাতে পারেননি। দুদক চেয়ারম্যান ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি সিট পরীক্ষা করে দেখেন, গতকাল যে সকল শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল তাদের অনেককেই  উপস্থিত দেখানো হয়েছে। আবার আজ বেলা ১০ টা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের রোল কল করা হয়নি। এ বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এর পর দুদক চেয়ারম্যান আকস্মিক পরিদর্শনের যান নগরীর শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নবম শ্রেণিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের ২০০০ টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে প্রোমোশন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, এটা অনৈতিক । শিক্ষাক্ষেত্রে অনৈতিকতার কোনো স্থান থাকতে পারে না।