বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা: জোলি|121310|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:১০
বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা: জোলি
কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা: জোলি

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবি: দেশ রূপান্তর

রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী মন্তব্য করে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, তাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। এজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জোলি বলেন, “আমি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, মিয়ানমার সরকার তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে।”

“আমি এক রোহিঙ্গা নারীকে প্রশ্ন করেছিলাম- তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে কিনা? জবাবে তিনি আমাকে জানিয়েছেন- তাকে গুলি করে মেরে ফেললেও মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না।”

এই হলিউড অভিনেত্রী বলেন, “এতে বোঝা যায়- মিয়ানমারের রাখাইনে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখুন আমরা সবাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থান করছি। এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য আমি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সেখানে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও উপস্থিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পরে উখিয়ার কুতুপালং ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। একই ক্যাম্পে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

পরে দুপুরে কুতুপালং ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই এখানে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শিবিরগুলোতে এখন দিন কাটছে তাদের। এসব রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে ঢাকায় আসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তবে বিভিন্ন কারণে এর আগে অন্তত চারবার তার সফর স্থগিত করা হয়।

এর আগে গত বছরের ২১ মে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

এবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন। পাঁচ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে।