অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি করায় সংসদে তোলপাড় |122619|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৫৬
অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি করায় সংসদে তোলপাড়
বিশেষ প্রতিনিধি

অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি করায় সংসদে তোলপাড়

অন্তঃসত্ত্বার কারণে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বেগম বীণাকে ওএসডি করায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপিরা। এই ধরনের সিদ্ধান্ত বর্তমান নারী ক্ষমতায়নের যুগে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সোমবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তারা। এ সময়ে সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। স্পিকার নিজেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বিষয়টি সংসদে তোলেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ওই এলাকার এমপি শামীম ওসমান।

বর্তমান সরকার নারী ক্ষমতার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে চুমকি বলেন, হোসনে আরা বেগম বীণা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। তার সহকর্মীরা কাজের প্রশংসা করেছেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ৯ বছর পর মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা একজন নারীর চিরন্তন। সেই শিশুটিকে নিয়ে তার যে মানসিক অবস্থা তা নিশ্চয় আমরা উপলব্ধি করতে পারি। সন্তান সম্ভাবা নারীদের প্রতি অনেক গুরুত্ব দেওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। একজন সন্তান যদি সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ না করে তাহলে শুধু মা নয়, আমাদের সমাজ ও দেশের জন্য বার্ডেন হতে পারে। এই ঘটনার জন্য একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেন তিনি।

এরপর শামীম ওসমান ওই নারীকে নিজের বোনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমি এই সময় ওমরায় ছিলাম। এই ঘটনার জন্য অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। আমার নির্বাচনী এলাকা হিসেবে সার্টিফায়েড করতে চাই- ওই কর্মকর্তা অত্যন্ত কর্মঠ ও যোগ্য ছিলেন। নির্বাচনের সময় তাকে আমি অন্য জায়গায় বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি রাজি ছিলেন না। বরং কাজ করতে পারলে তিনি ভালো থাকবেন বলে জানান।

এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, আশা করি, জনপ্রশাসন মন্ত্রী এ ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রসঙ্গত, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোসনে আরা বেগম বীণাকে ওএসডি করা হয়।

ওএসডি’র পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বীণা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়।তার স্ট্যাটাসের মূল বক্তব্য হল- মাত্র ৯ মাস পূর্বে তিনি এ পদে যোগদান করেন। তার দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চেষ্টা চিকিৎসার পরও কোনো সন্তান হয়নি। কিন্তু পাঁচ মাস পূর্বে জানতে পারেন তিনি দুই মাসের সন্তান সম্ভবা। এ অবস্থা নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে এপ্রিসিয়েশনও দিয়েছে। অথচ সন্তান সম্ভবা হওয়ার পর তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলির পাঁয়তারা করে ছিল একটি মহল। বীণার অভিযোগ, তার জায়গায় পোস্টিং নিতে প্রভাবশালী কারও তদবিরে এমনটা হয়েছে।