গ্যাসের বর্তমান মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা|124344|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৩৮
গ্যাসের বর্তমান মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
অনলাইন ডেস্ক

গ্যাসের বর্তমান মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

দেশে গ্যাসের সংকট বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় বাড়িতে এখন রান্না করা দায় হয় গেছে। বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে বাড়ছে নির্ভরতা।

সংকট মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি শুরু করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে দেশে গ্যাসের মজুদ কতুটুকু? এটা দিয়ে কতদিন চলবে? সরকারি তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এনিয়ে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদে তথ্য দিয়েছেন, গ্যাসের উত্তোলনযোগ্য নিট মজুদের পরিমাণ ১২.৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

এই হিসাব এক বছর আগের কথা। ব্যবহারের কারণে এখান থেকে মজুত আরও কমেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশে এখন গ্যাসের মজুদ ১২ টিসিএফ আছে। প্রতিবছর এক টিসিএফ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। সে হিসেবে এই গ্যাসে আগামী ১২ বছর চলার কথা।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পরিমাণ গ্যাস এখন মজুত আছে সেটি দিয়ে ১০ বছরের বেশি চলবে না। এমনটাই মনে করেন অনেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশে এখন সব মিলিয়ে ১০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস নেই।

তিনি আরও বলেন, মজুত যা আছে, সেটা আমি সবসময় একই পরিমাণে উত্তোলন করতে পারব সেটা হয় না। গ্যাস যত উত্তোলন করা হবে, গ্যাস ক্ষেত্রের চাপ ততই কমতে থাকবে।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ফলে একপর্যায়ে গ্যাসের মজুত থাকলেও গ্যাস উত্তোলন ক্রমাগত কমতে থাকবে। বর্তমানে গ্যাসের মজুত এবং উত্তোলন হিসাব করলে আগামী ১০ বছরের জন্য গ্যাস আছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, “এটা একটা ইন্ডিকেশন যে আমাদের আরও ব্যাপক হারে অনুসন্ধান করতে হবে। সামনে বিপদ আছে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের জায়গা হচ্ছে গভীর সমুদ্র। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পরে মিয়ানমার বেশ দ্রুততার সঙ্গেই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, “আমরা মনে করি বাংলাদেশের সাগর বক্ষে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস আছে। যদি সেগুলো অনুসন্ধান এবং উত্তোলন করা হতো, তাহলে এখন যে গ্যাস ক্রাইসিস আছে সেটা হতোই না।”

তিনি বলেন, “এটা একটা হতাশাজনক চিত্র। গত ১০-১৫ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় নাই।”

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছেন, গ্যাস সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে এলএনজি আমদানি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। মিয়ানমারে কাছে সমুদ্রে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে।