ফায়ার সার্ভিস আধুনিকায়নের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে: ওবায়দুল কাদের|124737|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:০০
ফায়ার সার্ভিস আধুনিকায়নের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে: ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফায়ার সার্ভিস আধুনিকায়নের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ফটো

ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন। পাশাপাশি জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করবে সরকার।

তিনি জানান, কেমিক্যাল থাকার কারণে আগুন ভয়াবহভাবে দ্রুত ছড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের করার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিষয়ে অবশ্যই সরকার ব্যবস্থা নেবে। এসব মানবিক দিক সরকার সব সময় দেখে আসছে এখনো দেখবে। সরকারের অবস্থান এখানে অনেক কঠোর। সরকার যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সব নেবে।”

আরও জানান, পুরান ঢাকার অন্যান্য কেমিক্যাল গুদাম সরানোর জন্য তদন্ত কমিটি করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৭০ ছাড়িয়েছে। লাশের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ।

বুধবার রাত ১০টার দিকে এ আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা জুয়েল রহমান রাত ২টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এ ঘটনা আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। আগুন লাগার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সরু গলি হওয়ায় ভবনের কাছে যেতে সক্ষম হয়নি। ফলে রাত সাড়ে ১২টার পর পাশের আরও প্রায় চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, চকবাজার থানার সামনে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের ভবনের পানির ট্যাংক থেকেও পানি সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিস। রাত ৩টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

এদিকে আগুন লাগার পর চকবাজার এলাকার গ্যাসলাইন থেকেও ওই সময় আগুন বের হচ্ছিল। এ সময় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রাজ্জাক ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক দ্রব্যের কারখানা ছিল। ভবনের পাশেই ছিল বেশ কিছু রেস্তোরাঁ। সেগুলোর প্রতিটিতে চার থেকে পাঁচটি করে গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। আগুন ছড়িয়ে যাওয়ায় এসব গ্যাস সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে এক কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের প্রাণহানি হয়।