পরিচয় মিলেছে ২২ লাশের|124757|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৫১
পরিচয় মিলেছে ২২ লাশের
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিচয় মিলেছে ২২ লাশের

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ২২জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বেশির ভাগেরই বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। এর মধ্যে একই পরিবারের তিনজন।

নিহতরা হলেন- নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি ইউনিয়নের ওয়াছেদপুর গ্রামের আলী আজমের ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার বজরা ইউনিয়নের জোসকমতা গ্রামের শাহেবুল্লাহর ছেলে মো. মাসুদ রানা (৩৫) ও মাহবুবুর রহমান রাজু (২৯), সোনাইমুড়ি থানার রসিদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৩৮), একই থানার নাটেশ্বর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামের  সৈয়দ আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩২), বেগমগঞ্জ উপজেলার হলি বল্ভবপুর গ্রামের মো. মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোশারফ হোসেন বাবু, একই উপজেলার জিগাতলাবাজার ইউনিয়নের মুজাহিদপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে কামাল হোসেন (৪৫), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির নাটেশ্বর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে সিদ্দিক উল্লাহ, বুলু মিয়ার ছেলে মো. আলী হোসেন (৬৫)।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আওতাপাড়ার কামালউদ্দিনের ছেলে সৈয়দ খবির উদ্দিন নাহিদ (৩৮), কুড়িগ্রামের চন্ডিপুরের আবু বকরের ছেলে খোরশেদ আলম (২২), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ রামপুর গ্রামের মোতালেব কাজীর ছেলে এনামুল হক,  কুমিল্লার হোমনার শ্রীপুর গ্রামের ডা. খলিলুর রহমানের ছেলে হাফেজ মো. কাউজার (২৬), কুমিল্লার ব্রাক্ষণপাড়ার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. শাহাদাৎ হোসেন (৩০)।

একই পরিবারের তিনজন:

ঢাকার লালবাগ থানার বটে মসজিদ লালবাগ রোডের ডুরি আংগাল লেনের সনি আক্তার (২৮), তার স্বামী মো. মিঠু ও তাদের তিন বছরের ছেলে মো. সাহির (৩) নিহত হয়।

 এছাড়া চকবাজারের ছাতা মসজিদ গলির এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আরাফাত (৩), কেবি উর্দু রোডের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের ছেলে মো. ইয়াসিন খান রনি, হাজী বাল্লু রোডের ৩২/৩৩, ওয়াটার ওয়ার্কাস’র বাসিন্দা মৃত ইসলামের ছেলে মো. জুম্মান (৫০) এবং একই এলাকার মো. মল্লিকের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও অপু রায়হান (৩১) নিহত হন।

বুধবার রাত ১০টার দিকে এ আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করে বিমানবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার। দুপুর নাগাদ আগুন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ৭০জনের প্রাণহানি ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ওই ভবনের নিচ তলায় থাকা কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগে।

এ ঘটনা আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। আগুন লাগার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও সরু গলি হওয়ায় ভবনের কাছে যেতে সক্ষম হয়নি। ফলে রাত সাড়ে ১২টার পর পাশের আরও প্রায় চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, চকবাজার থানার সামনে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের ভবনের পানির ট্যাংক থেকেও পানি সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিস। রাত ৩টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।