বই পড়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার পেল শিক্ষার্থীরা|124969|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৪১
বই পড়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার পেল শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বই পড়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার পেল শিক্ষার্থীরা

বইপড়ার জন্য রাজধানীর ৬৮ বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শুক্রবার নটর ডেম কলেজে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শনিবার আরও ২৮ বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯৯৮ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এবার স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরা পাঠক পুরস্কার এই চারটি ধাপে ৯৬ বিদ্যালয়ের মোট ৫ হাজার ৮৭২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

পুরস্কার বিতরণ উৎসবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পৃথিবীতে দু’ধরনের মহৎ মানুষ আছে। এক ধরনের মানুষ প্রকৃত বই পড়ে জাতিকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন। আরেক ধরনের মানুষ বই না পড়েও জাতিকে শিক্ষিত বা সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। এই দু’ধরনের মানুষেরই উদ্দেশ্য একই রকমের; মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তাই তোমরা বিখ্যাত মনীষীদের বইগুলো পড়ার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে আমরা একটা সমৃদ্ধ আলোকিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ও লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বর্তমানে বই পড়ার প্রবণতা কমে গিয়ে ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকে মাদকের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, মাদক গ্রহণে মস্তিষ্কের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ফেসবুক ব্যবহারেও মস্তিষ্কের বিরাট ক্ষতি হয়। এই জন্য তোমরা যারা ফেসবুক ব্যবহার করো, তারা ফেসবুক ছেড়ে বই পড়ায় মনোযোগী হবে বলে আশা করি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের সময়ে দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে মানুষ হওয়া। আর এ মানুষ হওয়ার জন্য আমাদের প্রচুর বই পড়া প্রয়োজন। তাই তোমরা বিশ্বসাহিত্যের সেরা বইগুলো পড়ে মানুষের মতো মানুষ হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং গ্রামীণফোনের হেড অব সাসটেইনেবিলি রাসনা হাসান। দুদিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন।