চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইকারীর হাতে ছিল ‘খেলনা পিস্তল’|125476|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:১০
চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইকারীর হাতে ছিল ‘খেলনা পিস্তল’
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইকারীর হাতে ছিল ‘খেলনা পিস্তল’

ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইকারীর হাতে ‘খেলনা পিস্তল’ ছিল বলে জানিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। রবিবার রাতে এক টিভি অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’। প্রায় দুই ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার অবসান হয়। কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন। 

ঘটনার পরপরই বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এক টিভি অনুষ্ঠানে বলেছেন, এক ‘চিত্রনায়িকার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে’ ওই যুবক এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান জানান, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন, তার হাতে থাকা অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল।  

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ময়ূরপঙ্খী আকাশে অন্তত ১৫ হাজার ফুট ওপরে দিকে উড়ে যাচ্ছিল। তখন উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে চলে আসেন। ওই সময় যুবকটি এক ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে বলেন, আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব।

যুবকের হুমকি অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপন বার্তায় জানান। এই সময় উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল।

পাইলট গোলাম শফিক ও সহকারী পাইলট জাহাঙ্গীর ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং কৌশলে জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান।

ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী উড়োজাহাজের ভেতরে ‘বিস্ফোরণের মতো’ ঘটান। ততক্ষণে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামে অবতরণ করে ফেলে।

২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান জানান, মাহাদীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পর বিমানবন্দর অচল হয়ে যায়। কিন্তু এটি তো একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তাই আমাদের প্রধান কাজ দ্রুত বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। তাই অভিযানে বেশি সময় নেওয়া হয়নি। মাত্র ৮ মিনিটেই অভিযান শেষ করা হয়েছে।

গুলির শব্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, আসলে বিমান ছিনতাই হওয়ার পরে যাত্রীরা এক ধরনের ট্রমায় থাকেন। তারা অনেক কিছু শুনতে পান, অনেক কিছু বলেন। এগুলো আসলে এক ধরনের হ্যালুসিনেশন। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে।

অস্ত্রধারী যুবকটি এতো নিরাপত্তার ঘেরা ডিঙিয়ে পিস্তল নিয়ে কীভাবে বিমানে উঠল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি বিষয়টি।