অস্ত্রধারী কীভাবে বিমানে উঠলো?|125541|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১০:৩০
অস্ত্রধারী কীভাবে বিমানে উঠলো?
অনলাইন ডেস্ক

অস্ত্রধারী কীভাবে বিমানে উঠলো?

টানটান উত্তেজনার পর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার অবসান হয়। ছবি: দেশ রূপান্তর

ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ রোববার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার অবসান হয়।

কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন। টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল বলে জানা গেছে। তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এর আগে উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় ভিড় করে অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় সাতটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ভেদ করে কোনো ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে পেরেছে, তা নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

পুরো বিষয়টি তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিমান চলাচল বিষয়ে বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠে তা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। এমন ঘটনায় মানুষ আশ্চর্য হয়েছে, নিরাপত্তার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা তদন্ত করব। সিসিটিভি আছে, সেটি চেক করব। (স্ক্যানিং) মেশিনের ভেতর দিয়ে যদি নেইল কাটার, খেলনা পিস্তল, ছুরি ধরা পড়তে পারে, তাহলে এগুলো ধরা হবে না- জিনিসটা খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তদন্ত হোক তাহলে দেখা যাবে।”

কাজী ওয়াহিদুল হক বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা সিলেট হয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে। এসব ফ্লাইটে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী নেওয়া হয়। সেখানেই নিরাপত্তার ঘাটতি থাকে বলে তিনি মনে করেন।

এই বিশ্লেষক বলেন, এমন ফ্লাইটে ঢাকায় আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী উঠছে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে এবং অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে উঠছে অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা। এই দুই জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছুটা ফারাক থাকতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের দেহ তল্লাশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের চেক বা নিরাপত্তা পরীক্ষা বেশি করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যে ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল, এই ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকেও যাত্রী নেওয়া হয়েছিল বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সূত্রগুলো বলছে।

এই সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে নিহত ব্যক্তি অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে উঠেছিল কিনা, সেটা তদন্ত করা হবে।