‘রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নেই’|128024|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৯ ১৩:২৩
‘রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নেই’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নেই’

ফাইল ছবি

নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, “সমাজে একটা অনিয়ম প্রবেশ করে, সেটাকে প্রতিহত করার জন্য আরেকটা আইন তৈরি করা হয়।  আমরা ইভিএম শুরু করে দেব। সুতরাং সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকে না।”

রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নূরুল হুদা বলেন, “কারা সেজন্য দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা আমাদের কমিশনের নেই। ওভাবে বলারও কোনো সুযোগ নেই, কী কারণে এগুলো হচ্ছে।  আমাদের সমাজ আছে, আপনারা আছেন, আমরা সবাই মিলে দেখব। এভাবেই হয়তো অবস্থার উন্নতি হবে।”

তবে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। কারণ এটার স্বাধীন সত্তা আছে। নির্বাচন পরিচালনার সময় আপনার হাতে, আমাদের হাতে কোনো কিছু গোপনীয় নেই।”

সিইসি বলেন, “গোপনীয় কাগজ নেই, গোপনীয় সলাপরামর্শ নেই, গোপনীয় কোনো বিষয় নেই। শুধু গোপনীয় একটি কক্ষ আছে, যেখানে ভোটাররা ভোট দেবেন। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। তথ্য-উপাত্ত, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু ভোটার ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।”

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে বলেও মনে করেন সিইসি।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে আপনাদের ভূমিকা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনমুখী করার জন্য ভূমিকা আপনাদের রয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনাদের অবদান আশা করি থাকবে। আপনাদের আচার-আচরণে, ব্যবহারে এবং কাজে যখন একটা অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে।”

নূরুল হুদা বলেন, “যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের কোনো পক্ষ নেই। আপনাদের পক্ষ হলো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কে কোন দল করে, কার প্রভাব বেশি, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী- এসব মোটেই বিবেচ্য বিষয় হবে না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে হবে।”

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে হেরে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যে জিতে যাবে, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই হেরে যাওয়া আর জিতে যাওয়ার মাঝে আপনার যাতে কোনো দুর্বলতা না থাকে, যার ওপরে আপনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন।”

নির্বাচন কমিশনের যেসব কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা সবচেয়ে বেশি ভালো করবেন বলেও মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘কারণ আইন-কানুন, নিয়ম সব আপনাদের জানা।’