logo
আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৯ ২১:২৩
গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ‘৯৪২’ নারী
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ‘৯৪২’ নারী

২০১৮ সালে ৯৪২ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ৬৬টি সংগঠন। এ বছরে ৩ হাজার ৯১৮ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জানিয়ে সহিংসতা বন্ধে ২০ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করে তারা।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এসব দাবি ঘোষণা করা হয় বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানায়।

তারা জানায়, নারী ও কন্যাশিশুরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক সহিংসতাসহ বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

বছরজুড়ে দেশের শীর্ষ সারির ১৪টি জাতীয় দৈনিক থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ৯৪২ ঘটনায় হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪৬ নারী। অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১৯ জন। এ সময়  অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৫টি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ বছরে পাচারের শিকার হয়েছে ৪১ নারী ও শিশু। বিভিন্ন ঘটনায় ৪৮৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন ২১২ নারী, হত্যার শিকার ১০২ জন। গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৭ জন, এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে এবং নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে ৪ জন।

একই বছরে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৭১ নারীকে যাদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন ১২ জন। বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯ জন।

এসব সংগঠনের ২০ দফা ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ধর্ষণের মতো ঘটনায় অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়, প্রশ্রয় বন্ধ, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ নির্যাতিত নারীর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে তারা।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে ঘোষণায় স্বাক্ষর করে, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ৬৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।