অনিয়ম সহ্য করা হবে না, প্রয়োজনে গুলি চলবে: ইসি রফিকুল|129372|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৯ ২০:০৮
অনিয়ম সহ্য করা হবে না, প্রয়োজনে গুলি চলবে: ইসি রফিকুল
মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

অনিয়ম সহ্য করা হবে না, প্রয়োজনে গুলি চলবে: ইসি রফিকুল

ছবি: দেশ রূপান্তর

ভোট গ্রহণ নিয়ে অতীতে কী হয়েছে, আর ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা নয়-এই নির্বাচনে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে গুলি চলবে- বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন রফিকুল ইসলাম।

এই সময় নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ভোট গ্রহণ বন্ধ হবে। কিন্তু অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা কোনো দলীয় সরকারের অধীন নই। আমরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কাছে দায়বদ্ধ। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। তাই নিজের বিবেকের তাড়নায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অংশীদার হোন।

ভৈরব উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে স্থানীয় সরকারি কে.বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আপনারাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রথম এবং প্রধান সোপান। আপনাদের স্বাক্ষর করা ভোটেরই গেজেট করি আমরা। সুতরাং আপনারা নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে ভোট গ্রহণ করবেন। ভোট কেন্দ্রে ভোটার কি হলো। পার্সেন্টে ৩ না ৩০ হলো, সেটা দেখার বিষয় না। কারণ ভোট কেন্দ্রে ভোটার টেনে আনার দায়িত্ব আমাদের না। সেটা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাজ।

এ সময় তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখন আমাদের গালিগালাজ করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে বিতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু সেদিন তো তারা কেউ আমাদের কাছে নালিশ করেননি। এমনকি আপনারা যারা নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত ছিলেন আপনারা এবং আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা, কেউই অভিযোগ তুলেননি। আজ কেনো আমাদের দোষারূপ করছেন? আমরা তো যেসব জায়গায় অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগে ২৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছিলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে আপনারা ভোট গ্রহণ করবেন। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি আপনাদের এবং ভোট কেন্দ্রের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। থাকবেন পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। আর কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি আমাকে এবং পুলিশ সুপার মহোদয়কে মোবাইল ফোনে জানাবেন। আমাদের নাম্বার আপনাদের কাছে রেখে দেবেন।

এ সময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন, ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের এএসপি ধীরেন চন্দ্র মহাপাত্র, ভৈরব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। 

দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৮৬জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৫৭০জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১১৪০জন পোলিং অফিসার অংশ গ্রহণ করেন।

আগামী ২৪ মার্চ রোববার অনুষ্ঠিতব্য ভৈরব উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের দুই লাখ ৪০২জন ভোটার ৮২টি কেন্দ্রের ৫৪৩টি কক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।