কলকাতার উদ্দেশে ভ্রমণ জাহাজ মধুমতি|132637|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০১৯ ২২:১৫
কলকাতার উদ্দেশে ভ্রমণ জাহাজ মধুমতি
কমল খান, নারায়ণগঞ্জ

কলকাতার উদ্দেশে ভ্রমণ জাহাজ মধুমতি

এমভি মধুমতি

শুক্রবার রাতে ৬১ পর্যটকসহ ১৩৭ জনের প্রথম বহর নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যাচ্ছে এমভি মধুমতি। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের পাগলায় মেরি এন্ডারসনের ভিআইপি ঘাট থেকে ওই জাহাজ ছেড়ে যায়। ৩১ মার্চ দুপুরে কলকাতা পৌঁছানোর আগে জাহাজটি চলবে বুড়িগঙ্গা হয়ে বরিশাল, বাগেরহাটের মোংলা, সুন্দরবন, খুলনার আন্টিহারা দিয়ে ভারতের হলদিয়ায় ঢুকবে।

শুক্রবার বিকেলে মেরি এন্ডারসনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র এমভি মধুমতি জাহাজ নারায়ণগঞ্জ থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

এ সময় তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কখনো ভোলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের দেশের মানুষদের আশ্রয় দিয়েছিল ও আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও অনেক গভীর।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আজকে এ জাহাজ চলাচল আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরো সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করবে। আর এতে আমরা একে-অপরকে আরো কাছাকাছি দেখব। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এর মাধ্যমে দেশের সুন্দরবনসহ নানা পর্যটন স্পট দেখতে পারবে যাত্রাপথে। এ জাহাজে ভ্রমণের কারণে সড়ক পথে চাপ কমবে। বিগত দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও নৌপথে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রায় আমাদের সেই ভ্রমণের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের নদীগুলোকে ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বুড়িগঙ্গার পানিতে স্বচ্ছতা আনব। সেটা বাস্তবায়ন করতে ২ থেকে ৩ বছর লাগতে পারে। আমাদের দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের না বরং রক্তের সম্পর্ক। ভাইয়ের মতো সম্পর্ক। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ১২ হাজার লোক মারা গেছে। আমাদের শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন। এক সময়ে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জের খানপুরে বঙ্গবন্ধু অভ্যর্থনা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কিছু করতে চাই। নদীকে দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি করাতে চাই।

 এ ছাড়াও বক্তব্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন দিক তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ বলেন, ৬১ পর্যটক, সাংবাদিকসহ ১৩৭ কর্মকর্তার জাহাজটি মূলত পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা করবে। তবে পরীক্ষামূলক যাত্রায়ও থাকবে বৈচিত্র্য। আশা করছি নিয়মিত এটা চলবে। আপাতত কলকাতা পর্যন্ত জাহাজটি চললেও ভবিষ্যতে শিলং ও চেন্নাই পর্যন্ত চলাচলের চেষ্টা করা হবে। জাহাজটিতে পর্যটকরা একটু ভিন্ন মাত্রা পাবে। কারণ বাংলাদেশের অনেক সুন্দর এলাকা দিয়ে চলবে জাহাজটি। এর মধ্যে সুন্দরবনের ভেতর দিয়েও চলবে যেখানে পর্যটকরা ভিন্ন অনুভূতি পাবে।

তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের সৌহার্দ্য বাড়াতে আমরা প্রস্তাব করেছি যারা এ জাহাজে চলাচল করবে তাদের যেন কলকাতায় ভারতীয় সরকার অনএরাইভাল ভিসার সুবিধে দেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

 বিআইডব্লিটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও যাত্রী) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, এমবি মধুমতিতে ৮টি ভিআইপি কেবিন, স্নিগ্ধা ৭২টি চেয়ার, ডিলাক্স ৩৬টি, চেয়ার ৪২টি ও ডেক এবং ক্রুজসহ ৬৫৪ জনের ধারণক্ষমতা। জাহাজটিতে নিরাপত্তার জন্য ৮১০টি লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া আছে ৮৪টি।

তিনি আরো জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ২৯ মার্চ রাত ৮টার কিছু আগে রওনা দিয়ে চাঁদপুর হয়ে ৩০ মার্চ ভোরবেলা বরিশালে যাত্রাবিরতি করবে এমভি মধুমতি। সেখান থেকে বাগেরহাটের মোংলায় কিছু সময় থামবে জাহাজটি। বাগেরহাট থেকে সুন্দরবনে ভেতরে যাবে এটি। সুন্দরবন ঘুরে মধুমতি জাহাজটি খুলনার কয়রার আন্টিহারার দিকে যাবে। সেখানে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে। আন্টিহারা হয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় যাবে। হলদিয়া থেকে সরাসরি কলকাতা চলে যাবে মধুমতি। সবশেষ গন্তব্য কলকাতা নৌবন্দরে পৌঁছাবে ৩১ মার্চ রোববার দুপুর ১২টার দিকে। রোববার কলকাতায় থেকে পরদিন ১ এপ্রিল ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে এমভি মধুমতি।

একইভাবে ২৯মার্চ ভারতের সময় রাত ৯টার দিকে ভারতীয় একটি নৌযান বাংলাদেশের দিকে আসবে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের একটি নৌযান বাংলাদেশে যাত্রী নিয়ে আসবে। ১৭ দিন ঘুরে নৌযানটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌপথ পাড়ি দেবে। নৌযানটি হলদিয়া দিয়ে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশে আসবে।

বাংলাদেশে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা হয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি আসবে ভারতীয় এই নৌযান। এরপর বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকায় আসবে। ঢাকা থেকে ভারতীয় নৌযানটি সিরাজগঞ্জ দিয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে আবার ভারতের আসামের দিকে চলে যাবে।

কেবিন ভাড়া ফ্যামিলি স্যুট (দুজন) ১৫ হাজার টাকা, প্রথম শ্রেণি (যাত্রীপ্রতি) পাঁচ হাজার টাকা, ডিলাক্স শ্রেণি (দুজন) ১০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার প্রতিটি দুই হাজার টাকা এবং সুলভ ও ডিলাক্স শ্রেণির যাত্রীপ্রতি ভাড়া রাখা হবে দেড় হাজার টাকা। জাহাজে প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলের নাশতা, রাতের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এসব খাবার যাত্রীদের কিনে খেতে হবে।

এ ছাড়া ভিসাও যাত্রীদের নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে। ভিসায় কোন পথে যাত্রীরা যাবেন এবং কলকাতা হয়ে ফেরত আসবেন সে বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।