ভাসানচরে রোহিঙ্গা আবাসন কেমন|133500|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৩৬
ভাসানচরে রোহিঙ্গা আবাসন কেমন
অনলাইন ডেস্ক

ভাসানচরে রোহিঙ্গা আবাসন কেমন

মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ দিকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানায়, দেড় মাসের মধ্যে সেখানে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, আশ্রয় কেন্দ্রসহ সব ধরনের অবকাঠামোর নির্মাণ শেষ হবে।

বঙ্গোপসাগরে ১৩ হাজার একরের দ্বীপ ভাসানচরে তিন হাজার একর জায়গার চারপাশে বাঁধ নির্মাণ করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। লাগানো হয়েছে নারিকেল-সুপারিসহ গাছপালা।

রোহিঙ্গাদের আবাসনের সুবিধার্থে ১,৪৪০টি ঘর বানানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ১৬টি করে পরিবারের থাকবে। প্রতিটা পরিবারে যদি চারজন করে সদস্য হয় তাহলে তাদের আলাদা একটা কক্ষ দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য আলাদা রান্নাবান্না ও টয়লেটের সুবিধাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘরগুলোর কাজ প্রায় ৮৫ ভাগ শেষ হয়েছে।

এছাড়া বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পানি ঠেকাতে বাড়িগুলো মাটি থেকে চার ফুট উঁচু করে বানানো হয়েছে।

প্রকল্পটিতে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে ‍গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জৈব উচ্ছিষ্ট থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই গ্যাস দিয়েই চলবে রান্নাবান্না। এছাড়া বিদ্যুতের জন্য সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।

প্রতিটি স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য তিনটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো- ভূমির ৭২০ ফুট গভীর থেকে পানি উত্তোলন, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত পুকুর। এর জন্য প্রতিটি ক্লাস্টারে খনন করা হয়েছে ১২০টি পুকুর।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১২০টি সাইক্লোন সেন্টার বানানো হয়েছে। এগুলোর একেকটি চার তলা ভবন। যার নিচতলা পুরো খালি থাকবে এবং প্রতিটি শিবিরে এক হাজার মানুষ জরুরি অবস্থায় আশ্রয় নিতে পারবে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলোও ভূমি থেকে ৪ ফুট উঁচু করে বানানো হয়েছে। ভূমি থেকে ভবনটির নিচতলার ছাদ ১৪ ফুট ওপরে। অর্থাৎ যদি জলোচ্ছ্বাস ১৪ ফুটের ওপরে না আসে তাহলে কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

এর মধ্যে কয়েকটি বিকল্প কাজে ব্যবহারযোগ্য সাইক্লোন সেন্টার আছে। যেমন; প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল ও কলেজের কাজ চলবে এখানে।

আগে জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের সময় ভাসানচরের অনেকাংশই ডুবে যেতো। এ জন্যে উঁচু করে পাড় বাঁধানো হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। যারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বাস করছেন। এখানকার চাপ কমাতে সরকার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিকভাবে এক লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসনের জন্য ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয় সেখানে।