কারাগারের বন্ধুদের ‘ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড’ উৎসর্গ করলেন শহিদুল|133772|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:২২
কারাগারের বন্ধুদের ‘ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড’ উৎসর্গ করলেন শহিদুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাগারের বন্ধুদের ‘ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড’ উৎসর্গ করলেন শহিদুল

বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী দৃক-পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। জেলখাটা এই আলোকচিত্রী পুরস্কারটি কেরানীগঞ্জের (কারাগারের) বন্ধুদের জন্যে যারা অন্যায়ভাবে জেলে রয়েছেন, তাদেরকে উৎসর্গ করেছেন।

২ এপ্রিল বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে শহিদুল আলম পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি ‘স্পেশাল প্রেজেন্টেশন’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে তার ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন প্রদান, অতঃপর গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গটিও রয়েছে।

এ বছর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ফটোগ্রাফি আয়োজিত ৩৫তম বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও চারজন আলোকচিত্রীকে ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তারা হলেন- প্রাপ্ত অন্যান্য ফটো সাংবাদিকরা হলেন: দক্ষিণ আফ্রিকার রোজালিন ফক্স সলোমন (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট), যুক্তরাষ্ট্রের দাউদ বে (আর্ট), যুক্তরাজ্যের জাদি স্মিত (ক্রিটিক্যাল রাইটিং অ্যান্ড রিসার্চ), যুক্তরাষ্ট্রের জেস টি ড্রাগন (ইমার্জিং ফটোগ্রাফার)।

পুরস্কার পাওয়ার পর নিউ ইয়র্কের ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকীকে দেওয়া ভিডিও প্রতিক্রিয়ায়  শহিদুল আলম বলেন, “আমি এই পুরস্কার পেয়েছি- অবশ্যই ভালো লাগছে। কিন্তু, আমি মনে করি, এই পুরস্কারটি আমার নয়, এটি বাংলাদেশের। বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষদের। যারা স্বাধীনতার আন্দোলন করেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করেন, গ্রহণ করেন, এবং যারা সেই স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করতে চান।”

“আমি এই পুরস্কারটিকে উৎসর্গ করি আমার কেরানীগঞ্জের (কারাগারের) বন্ধুদের জন্যে যারা অন্যায়ভাবে সেখানে রয়েছেন। এবং যাদের মুক্তি আমাদের সবার দাবি।”

৩৫তম ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় শহিদুল আলম সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৮ সালের টাইম ম্যাগাজিন পারসন অব দ্য ইয়ার শহিদুল একজন আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করেন। ১৯৮৪ সালে দেশে ফিরে ফটোগ্রাফি শুরু করার আগে তিনি জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রচারণায় অংশ নেন। পরবর্তীকালে তিনি দৃক নামে একটি স্বনামখ্যাত আলোকচিত্র লাইব্রেরি এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি প্রবর্তন করেন ছবিমেলা নামে একটি আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসবের। তিনি বিভিন্ন সময় দুনিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, কেমব্রিজ ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর এবং রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সম্মানীয় ফেলো। ২০১৮ সালে তিনি সরকারি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে কারারুদ্ধ এবং নির্যাতিত হন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।