রোহিঙ্গাদের চাপে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ|134058|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩৭
রোহিঙ্গাদের চাপে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
বিশেষ প্রতিনিধি

রোহিঙ্গাদের চাপে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

ফাইল ফটো।

দানাদার খাদ্য শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকারী দেশ হয়েও খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার চাপে পড়েছে দেশ।

গত মঙ্গলবার গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর এক প্রতিবেদনে কক্সবাজারের ১৫ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সেখানকার ১৩ লাখ মানুষই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন। এফএও বলছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এ অঞ্চলের বাকি তিনটি দেশ মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।

প্রতিবেদনে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসার জন্য দায়ী করা হয়েছে রোহিঙ্গা সংকটকে। এতে বলা হয়, কক্সবাজারে শরণার্থীদের স্রোত বাংলাদেশে দরিদ্রতম ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় পরিণত হচ্ছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের চেয়ে স্থানীয়রা উচ্চমাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য বাড়তি খাবারের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে বেড়েছে খাদ্য পণ্যের দাম। মৌলিক অধিকার পূরণের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ২০১৭ সালে পুওর বা বর্ডার লাইন ফুড কনজাম্পশন সীমায় অবস্থানরত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ছিল ৩১ শতাংশ। ২০১৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ সময়ে তা বেড়ে ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এফএও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেন খারাপ হচ্ছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। তারা বলছে, রোহিঙ্গা বসতির কারণে স্থানীয় দরিদ্র জনগণের অনেকেই কৃষি জমিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। বন ও মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করতো, এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারাও। বাধ্য হয়ে অনেককেই দিনমজুরের কাজ করতে হচ্ছে।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের সস্তা শ্রমের কারণে দিনমজুরের কাজের সুযোগও স্থানীয়রা আগের মতো পাচ্ছে না। তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে দৈনিক মজুরিও কমে গেছে। বিপরীতে বাড়তি জনসংখ্যার চাপে বেড়ে গেছে খাদ্য মূল্য, যা সেখানকার দরিদ্রদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০১৮ সালের খাদ্য উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ধানের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

২০১৮ সালে এখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আমন, আউশ ও বোরো মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ধানের বার্ষিক ফলন ৩ কোটি ৬২ লাখ টনের বেশি। ভুট্টা উৎপাদন ছাড়িয়েছে ২৭ লাখ টন। আবহাওয়াগত কারণে গমের পাশাপাশি এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে দেশে। সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। সব মিলিয়ে দানাদার খাদ্য শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এ অর্জন ম্লান হচ্ছে রোহিঙ্গা চাপে। রোহিঙ্গাদের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।