logo
আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:১৭
সংসদে জায়ানের প্রসঙ্গে নুসরাতকেও স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদে জায়ানের প্রসঙ্গে নুসরাতকেও স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের কোথাও কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে তা সরকারকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে জঙ্গি দমনে সফলতা এলেও প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসীর হামলার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।  

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলায় নিজের স্বজন হারানোর কথা উল্লেখ করে বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা প্রদানকালে দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। এ সময়, ওই বোমা হামলায় নিহত নাতি জায়ান চৌধুরীর পাশাপাশি সংসদে প্রধানমন্ত্রী সোনাগাজির মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকেও স্মরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার ইস্টার সানডের দিনে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৬৯ জন নিহত ও ৫০০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই, সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছেন।

বিকেলে নাতিকে শেষ দেখা দেখে শোকার্ত স্বজনদের সান্ত্বনা জানিয়ে সন্ধ্যার পর সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে কথা বলেন। সংসদের অধিবেশনের শুরুতে শোকপ্রস্তাবে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে জায়ান চৌধুরীকেও রাখা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই না, এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটুক। যারা সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী, তাদের কোনো ধর্ম নাই, তাদের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নাই। জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। আর ইসলাম ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করে, আমি বলব তারা আমাদের এই পবিত্র ধর্মটাকেই মানবজাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে দিচ্ছে’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব ধর্মেই কিন্তু শান্তির কথাই বলা আছে। তারপরেও কিছু লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় তারা যে মানুষের প্রতি আঘাত হানে, মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, এটা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কষ্টকর’।

শ্রীলঙ্কার হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তারা এ মধ্য দিয়ে কী অর্জন করে, জানি না’। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার চালিয়ে নামাজরত মুসলিমদের হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন।

নাতি জায়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুরা কেন এভাবে জীবন দেবে? তিনি বলেন, ‘জায়ান তার ছোট ভাইসহ মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া ও বাবা মশিউল হক প্রিন্সের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল। তারা যে হোটেলে ছিলেন, সেখানেও হামলা হয়। হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতা করতে গিয়ে নিহত হন জায়ান। জায়ানকে বুধবার বাংলাদেশে এনে সমাহিত করা হয়েছে, তার বাবা প্রিন্স আহত হয়ে শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসাধীন’।

স্বজনের মৃত্যুতে ভারাক্রান্ত মনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জায়ান একটা ছোট বাচ্চা। মাত্র আট বছর বয়স। আজকে সে আমাদের মাঝে নেই। তার বাবাও মৃত্যুশয্যায়। বাবাকে এখনো জানতে দেওয়া হয়নি যে জায়ান নেই। সে বারবার খুঁজছে’।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কখনো মানুষের কোনো কল্যাণ আনতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবার মনুষ্যসৃষ্ট সন্ত্রাসও আমি দেখি- নুসরাত, তার যারা সাথি, তারা কেরোসিন তেল ঢেলে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারল! একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল সে। এই ধরনের যে অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটে। এটা সত্যিই, আমি বলব মানব জাতির জন্যই অকল্যাণকর’।